দুধ কমে যাচ্ছে গাইয়ের? ঘাস-কচুরিপানার বদলে অ্যাজোলা খাইয়ে দেখতে পারেন। শুধু গরু নয়, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, শুয়োর, মুরগি, হাঁস এমনকী মাছের খাদ্য হিসাবে অ্যাজোলার জনপ্রিয়তা বাড়ছে ক্রমশ।
ভাসমান এই জলজ শ্যাওলায় বেশি পরিমাণ প্রোটিন ও অত্যাবশকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ছাড়াও ভিটামিন এ, বি-১২, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জৈব উপাদান ও জৈব যৌগ আছে। অ্যাজোলা চােষ খরচও কম। জল বা কাদাযুক্ত স্থানে বেড়ে ওঠে এরা। শুকনো অবস্থায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়। পরিষ্কার অগভীর পুকুর বা পলিথিন ট্যাঙ্ক অ্যাজোলা চাষের পক্ষে উপযুক্ত। একটি ৬x৪ ফুট আয়তনের পুকুর বা ট্যাঙ্কের জন্য এক কেজি ওজনের অ্যাজোলার কালচার প্রয়োজন। ন্যূনতম ৬ ইঞ্চি জল ট্যাঙ্কে রাখা আবশ্যক। বৃষ্টির জল ব্যবহার করলে অ্যাজোলা দ্রুত বাড়ে। এছাড়াও প্রতি ১৫ দিন অন্তর এক কেজি গোবরের সঙ্গে প্রায় ১০০ গ্রাম সুপার ফসফেট মিশিয়ে ট্যাঙ্কে দিলে অ্যাজোলার বৃদ্ধি ভাল হয়। সম্পূর্ণ ট্যাঙ্কে অ্যাজোলা ছড়িয়ে যেতে ২-৩ সপ্তাহ সময় নেয়। এরপর প্রতিদিন অ্যাজোলা তোলা যায়। গবাদি পশু-পাখিকে অ্যাজোলা কাঁচা বা শুকনো অবস্থায় খাওয়ান। প্রথম দিকে দানাখাবারের সঙ্গে খাওয়ালে ভাল। গোবরের গন্ধ দূর করার জন্য পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে হবে।
(দঃ দিনাজপুর কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ)