নেতাই কাণ্ড

অনুজদের হেফাজতে নিয়েই জেরা করবে সিবিআই

নেতাই-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সিপিএমের বিনপুর জোনাল কমিটি সম্পাদক অনুজ পাণ্ডে-সহ সাত জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে সিবিআই। শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০১৫ ০২:৫৪
Share:

নেতাই-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সিপিএমের বিনপুর জোনাল কমিটি সম্পাদক অনুজ পাণ্ডে-সহ সাত জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে সিবিআই। শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

চার্জশিট পেশের পরে ধৃত ওই সাত অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হেফাজতে পেতে এর আগে নিম্ন আদালতে আবেদন করেছিল সিবিআই। কিন্তু ঝাড়গ্রাম আদালতে একাধিক বার এবং কলকাতা হাইকোর্টেও সে আবেদন নাকচ হয়। এর পরে সিবিআই শীর্ষ আদালতে আবেদন জানায়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অবশ্য আর কোনও বাধা থাকল না। সিবিআই সূত্রের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তাদের অন্যতম বড় জয়। নিয়মানুযায়ী, এ বার সিবিআইকে নিম্ন আদালতে আবেদন করে অনুজদের হেফাজতে নিতে হবে।

অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী রঘুনাথ ভট্টাচার্য অবশ্য বলেন, ‘‘আদালতের রায় নিয়ে কিছু বলার নেই। এটুকু বলতে পারি, অনুজ পাণ্ডেরা নির্দোষ। তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’’

Advertisement

২০১১-র ৭ জানুয়ারি লালগড়ের নেতাই গ্রামে সিপিএম কর্মী রথীন দণ্ডপাটের বাড়িতে থাকা সশস্ত্র-শিবির থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তাতে নিহত হন চার মহিলা-সহ ন’জন গ্রামবাসী। আহত হন ২৮ জন। প্রথমে সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও ২০১১-র ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিবিআইকে। সিবিআই ওই বছরই ১২ জন সিপিএম নেতা-কর্মীকে ধরে। কিন্তু মূল অভিযুক্ত অনুজ ও তাঁর সম্পর্কিত ভাই ধরমপুর লোকাল কমিটির সম্পাদক ডালিম পাণ্ডে-সহ আট জন ফেরার ছিলেন। পলাতক আট অভিযুক্ত-সহ ২০ জনের বিরুদ্ধে এপ্রিলে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। মামলাটি বিচারের জন্য মেদিনীপুরের বিশেষ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে ওঠে।

গত বছর ২৮ এপ্রিল পলাতক পাঁচ সিপিএম নেতা-কর্মীকে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ধৃতদের মধ্যে ছিলেন ডালিম পাণ্ডে, লালগড় লোকাল কমিটির সম্পাদক জয়দেব গিরি, বিনপুর জোনাল কমিটির সদস্য খলিলুদ্দিন, লালগড় লোকাল কমিটির প্রাক্তন সম্পাদক তপন দে ও দলীয় কর্মী রথীন দণ্ডপাট। ওই বছরই ৬ মে গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের বোকারো থেকে অনুজ পাণ্ডেকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ৮ মে ধরা পড়েন আর এক অভিযুক্ত চণ্ডী করণ। অভিযুক্ত সিপিএম নেত্রী ফুল্লরা মণ্ডল পরে মেদিনীপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সব অভিযুক্তই এখন জেলবন্দি।

Advertisement

গত বছর একাধিক বার অনুজদের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন করে সিবিআই। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী রঘুনাথবাবু সে বার বলেছিলেন, ‘‘সিবিআইয়ের চার্জশিট পেশের পরে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ-সহ বিচার চলছে। এই মামলায় নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।’’ এর পরেই সিবিআই হেফাজতের আবেদন খারিজ করেছিল নিম্ন আদালত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement