ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল

অভাব সত্ত্বেও সন্তান প্রসবে সেরার শিরোপা

নেই স্ত্রী রোগ ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। চারটি চিকিৎসকের পদ ফাঁকা। তবু সাফল্য অব্যাহত। এ বারও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে জলপাইগুড়ি জেলায় সেরার শিরোপা পেল ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্য দফতর থেকে ওই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে দেড় লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য কর্তাদের দাবি, অভাবের সংসারে পরপর পাঁচ বছর সাফল্যের পিছনে রয়েছে স্বাস্থ্য কর্মীদের পরিশ্রম।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৫০
Share:

নেই স্ত্রী রোগ ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। চারটি চিকিৎসকের পদ ফাঁকা। তবু সাফল্য অব্যাহত। এ বারও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে জলপাইগুড়ি জেলায় সেরার শিরোপা পেল ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্য দফতর থেকে ওই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে দেড় লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য কর্তাদের দাবি, অভাবের সংসারে পরপর পাঁচ বছর সাফল্যের পিছনে রয়েছে স্বাস্থ্য কর্মীদের পরিশ্রম।

Advertisement

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা বলেন, “ঘরদোর ঠিক নেই। চিকিৎসক কম। এক শয্যায় দু’জন রোগীকে রাখতে হচ্ছে। ওই পরিস্থিতিতে ময়নাগুড়ি ব্লকের স্বাস্থ্য কর্মীরা হাসি মুখে যে ভাবে লড়াই করছেন সেটা দৃষ্টান্ত। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি হাসপাতালের আধুনিকীকরণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।” ময়নাগুড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ বাগ বলেন, “স্বাস্থ্য কর্মী ও চিকিৎসকেরা দিনরাত পরিশ্রম করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। ব্লকের কোথাও বাড়িতে শিশু প্রসব হয় না। ধারাবাহিক প্রচারের ফলে এটা সম্ভব হয়েছে।”

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ওই গ্রামীণ হাসপাতাল সেরার স্থান দখল করে আছে। গত এক বছরে ৩ হাজার ১৫৫ জন প্রসূতি এখানে স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করেন। মাসে গড়ে প্রসব হয়েছে ৩২০টি। আরও ১ হাজার ৬০০ জন প্রসূতিকে সিজারের জন্য ১৯ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। ব্লকের ৪৬টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওই প্রসূতিদের মাতৃযানে গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রসূতির চাপ এবং স্বাভাবিক প্রসব বেশি হলেও হাসপাতালে স্ত্রী রোগ ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। চিকিৎসক থাকার কথা ৯ জন। আছেন ৫ জন। তাঁদের এক জন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, দু’জন অতিরিক্ত মেডিক্যাল অফিসার। বাকিরা ফিজিসিয়ান।

Advertisement

স্বাস্থ্য কর্মীদের অভিযোগ, স্ত্রী রোগ ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় সামান্য সমস্যা দেখা দিলে রোগীকে বাধ্য হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। অভিযোগ অস্বীকার করেননি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। তিনি বলেন, “অনেক কিছুই দরকার। সেটা ধাপে ধাপে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

জেলা স্বাস্থ্য কর্তারা জানান, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রসূতিদের সমস্যা এড়াতে হাসপাতালের লেবার রুমের স্বাস্থ্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ব্লকের ৪৬টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৮১ জন স্বাস্থ্য কর্মী আছেন।
তাঁরা গ্রামে ঘুরে গর্ভবতীদের খোঁজ রাখেন। হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

এক স্বাস্থ্য কর্মী বলেন, “এলাকার কোনও প্রসূতি যেন নজরের বাইরে না থাকেন, সে ভাবেই প্রতিদিনের কাজ চলে। প্রসূতির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়।” তিনি জানান, প্রসবের পরে মায়েদের দু’দিন হাসপাতালে রাখা হয়। তাঁদের থাকার সুবিধার জন্য ১৬ শয্যার একটি নতুন ঘর করা হয়েছে। এ ছাড়াও সদ্যজাতদের জন্য চারটি ওয়ার্মার এবং দু’টি ফটো থেরাপি মেশিন বসানো হয়েছে।

কিন্তু সমস্যা মিটছে কোথায়?

৬০ শয্যার হাসপাতালে প্রসূতিদের অনেককে মেঝেতে জায়গা খুঁজে নিতে হচ্ছে। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, “আমরা নিরুপায়। প্রতিদিন গড়ে ১৫ জন প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হচ্ছে। মহিলাদের জন্য শয্যা রয়েছে ৩০টি। এরই মধ্যে পরিষেবা দিতে হচ্ছে।” কিন্তু শয্যা না পেলেও পরিষেবা নিয়ে প্রসূতিদের মুখে অভিযোগ নেই। উল্টে আমগুড়ির শেফালি রায়, বর্মনপাড়ার সন্ধ্যা দাস বলেন, “ডাক্তারবাবুরা বারবার এসে দেখে যাচ্ছেন। ওষুধ পাচ্ছি। খাবারের সমস্যা নেই। একটাই বলার, শয্যার সংখ্যা বাড়লে ভাল হয়।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement