অবশেষে আগাম জামিন পেলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী। একই সঙ্গে আগাম জামিন মিলল কংগ্রেসের আরও তিন জনের। তাঁরা হলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদার, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ গৌতম সান্যাল ও জেলা পরিষদের সদস্য আশিস দে।
অভিযোগ, গত ১৮ অগস্ট কংগ্রেসের ডাকা বাংলা বন্ধে তাঁরা বহরমপুর শহরে একাধিক জায়গায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেন, সরকারি কর্মীদের মারধর করেন ও সরকারি কাজে বাধা দেন। এই মর্মে পুলিশ স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে অধীর চৌধুরীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। বন্ধের দিন অধীর ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের সামনে জামা খুলে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। বৃহস্পতিবার ওই মামলার মুর্শিদাবাদের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সুদেব মিত্র অধীর চৌধুরী-সহ অন্য অভিযুক্তদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।
পীযূষ ঘোষ, শুভাঞ্জন সেনগুপ্ত এবং শফিউল আলম অধীর চৌধুরীদের পক্ষে মামলা লড়েন। সরকার পক্ষের হয়ে মামলা লড়েন পিপি আবু বক্কর সিদ্দিকি। আগাম জামিনের জন্য আদালতে প্রথম আবেদন করা হয় গত ১ অক্টোবর। অধীর চৌধুরীর আইনজীবী পীযূষ ঘোষ বলেন, ‘‘গত ১ অক্টোবর থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মামলার শুনানির দিন পড়ে ৭ বার। কিন্তু প্রতিবার তদন্তকারী অফিসার মামলার ডায়েরি আদালতে হাজির করেননি।’’ আআইজীবীদের দাবি, গোটা ঘটনায় বিচারক বিরক্ত হয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে লিখিত নির্দেশ দিয়ে বলেন, ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে সিডি না পাঠানো হলে এক তরফা শুনানি করে আগাম জামিনের বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন। তদন্তকীর পুলিস অফিসার এ দিন আদালতে সিডি জমা দেন।
এ দিন আগাম জামিনের বিরোধিতা করে পিপি আবু বক্কর সিদ্দিকি বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘‘অভিযুক্তরা জনপ্রতিনিধি। এঁরাই আইন ভাঙলে তা গর্হিত কাজ।’’ বিপক্ষের দুই আইনজীবী শুভাঞ্জন সেনগুপ্ত ও সফিউল আলম সরকার পক্ষের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘‘মক্কেলদের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর-এ যে সব অভিযোগ তুলেছে সিডিতে তার পক্ষে কোনও নথি দেখাতে পারেনি। ফলে আগাম জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা নেই।’’
এরপর বিচারক অধীর চৌধুরী-সহ বাকিদের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেওয়া হয়। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে অভিযুক্তদের সিজেএম আদালতে হাজির হতে ও তদন্তকারী অফিসারকে তদন্তে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক সুদেব মিত্র।