সভা মঞ্চে দুই নেতা। রামপ্রসাদ সাউয়ের তোলা ছবি।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জোট-জল্পনার মধ্যেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী একা লড়াইয়ের কথা বলেছেন। এ বার বিধানসভার কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা মহম্মদ সোহরাব ও দলীয় বিধায়ক মানস ভুঁইয়াও একলা চলো নীতির পক্ষেই সওয়াল করলেন।
শনি-রবি দু’দিন ধরে সবংয়ের চাঁদকুড়ি ইউনিয়ন হাইস্কুলে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির ষষ্ঠ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। রবিবার সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মানসবাবু ও সোহরাব। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোহরাব বলেন, “আমি হাইকম্যান্ডকে জোটের বিষয়ে কোন সমীকরণে কী হবে তা জানিয়েছি। ৩৪ বছর বাঘের সঙ্গে লড়াই করেছিলাম, এখন কুমীরের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। এর থেকে বাঁচতে একলা চলার অবস্থানের কথাও জানিয়েছি।” সবংয়ের বিধায়ক মানসবাবুরও বক্তব্য, “বিধানসভা ও লোকসভার নীতি নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তবে বদল হয়েছে কিন্তু বদলা চলছে। তাই মনে করি কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে একা লড়াই করার শপথ নিয়ে পথে নামা প্রয়োজন।”
শনিবারই মগরায় কংগ্রেসের সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছিলেন, “আমরা একা লড়াই করার ক্ষমতা রাখি।” তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলের প্রথম সারির দুই নেতাও একা চলার পক্ষেই সওয়াল করলেন। দু’জনেই এ দিন তীব্র আক্রমণ করেন সিপিএম ও তৃণমূলকে। শিক্ষা ব্যবস্থায় দলতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলেন। সোহরাবের কথায়, “বাম আমলে অনিলায়ন হয়েছিল। এখনও শাসকদল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে সেই দলতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” অসহিষ্ণুতা থেকে শিক্ষক নিগ্রহ নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। সোহরাবের বক্তব্য, “এখন বিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতি শিক্ষকদের দরদ যেন কমে যাচ্ছে। আমি মনে করি আমার ব্যবহার এমন হতে হবে যাতে ছাত্ররা আমাকে শ্রদ্ধা করে।”
মানসবাবুও বলেন, “আমরা রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু বিদ্যাসাগরের বীরসিংহ গ্রামেই নিরক্ষর রয়ে গিয়েছে।’’ শিক্ষকদের প্রতি তাঁর বক্তব্য, ‘‘৩৪ বছর দেখলাম। এখন দিদিমণির রাজত্ব দেখছি। শিক্ষকরা বলতে পারবেন আপনারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুরক্ষিত?” স্কুলের পরিচালন সমিতিতে নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়া নিয়েও এই রাজ্যের সরকারকে বিঁধেছেন মানসবাবু। দুঃস্থ শিক্ষকদের সাহায্যার্থে এই শিক্ষক সংগঠনকে এক লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা এ দিন ঘোষণা করেছেন সবংয়ের বিধায়ক।
প্রায় দেড়শো প্রতিনিধি নিয়ে দু’দিনে এই সম্মেলনে বিদ্যালয়কে রাজনীতিমুক্ত করার ডাক দেওয়া হয়। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদান, মেডিক্যাল স্কিম চালু, শূন্যপদ পূরণ, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য পৃথক পর্ষদ চালু করা, পার্শ্বশিক্ষকদের বিদ্যালয়ের মূল স্রোতে যুক্ত করা-সহ নানা দাবি উঠে এসেছে। ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি জয়ন্তপ্রকাশ ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর্মকার প্রমুখ।