কাঁচা পাট ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কৌশলে বিক্রিবাটা কিছুদিনের জন্য স্থগিত করতেই চটকলগুলোর উপর সরাসরি তার প্রতিক্রিয়া হয়েছে। সোমবার এ রাজ্যের ২৫টি চটকল কর্তৃপক্ষ তাদের ঝাঁপ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে রাজ্য সরকারকে।
গত শনিবার থেকে বাংলাদেশ সরকার পাটের বেআইনি মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। সে দেশের সরকার রবিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এক মাসের জন্য কাঁচা পাটের সবরকম রফতানি বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের পাটশিল্প থেকে পাওয়া খবর, প্রায় ৫০জন কাঁচা পাট ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করে তাঁদের গুদামে হানা দেয় বাংলাদেশি পুলিশ। বলা হয়, এই সব ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কাঁচা পাটের বেআইনি মজুত করার কারণে সেদেশের পাটকলগুলিও ঝাঁপ বন্ধের মুখে পড়েছে।
এই ঘটনার সুযোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কাঁচা পাট ব্যবসায়ীরা সোমবার থেকে বিক্রিবাটা বন্ধ করে দেন। এ দিনই তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় গোটা পাটশিল্পে। কিন্তু, এ দেশের পাট কেন ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন না, এ নিয়েই চটকল মালিকেরা সোমবার দেখা করেন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের সঙ্গে। তবে বিষয়টি যেহেতু শ্রম সমস্যা সম্পর্কিত নয়, তাই মলয়বাবু জানিয়ে দেন, পাটশিল্পের সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে আগামী ৪ তারিখ মন্ত্রীগোষ্ঠীর বৈঠকে আলোচনা হবে।
জুট বেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল ভুতোরিয়া অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁদের বিক্রিবাটা বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্কট কার্যত স্বীকার করে নিয়ে তিনি এও বলেন, ‘‘সাধারণত পাট ব্যবসায়ীরা বাজারের পরিস্থিতি দেখে দু-একদিন পাট ধরে রাখেন। যাতে একটু বেশি দাম পাওয়া যায়। সে তো সব ব্যবসাতেই চলে। কিন্তু আমাদের সংগঠনের কাছে সেরকম কোনও খবর নেই যে কাঁচা পাট বিক্রি একেবারে বন্ধ করা হয়েছে।’’
পরিস্থিতি যে ভাল নয়, তা স্বীকার করেছেন পাট কমিশনার সুব্রত গুপ্তও। সোমবার তিনি বলেন, ‘‘প্রাকৃতিক কারণে এ দেশে পাটের চাষ এবার কমই হয়েছে। কিন্তু তার পাশাপাশি খাদ্যশস্য ভরার জন্য পাটের বস্তা কেনার কেন্দ্রীয় সরকারের বরাতও কম নেই।’’ কিন্তু কাঁচা পাটের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ার জন্য সময় মতো বস্তার চাহিদা সরবরাহ করা যেহেতু অসম্ভব হয়ে পড়ছে, এর পর কেন্দ্র তাও কিনবে না। তাই এ নিয়ে গত শনিবার বৈঠক ডেকেছিলেন সুব্রতবাবু। তিনি বলেন, ‘‘বৈঠকের মিনিটস ও কে কী বললেন তা দিল্লিতে পাঠিয়ে দওয়া হয়েছে। দিল্লিই এখন স্থির করবে আগামী দিনে কী করা হবে।’’
তিনি আরও বলেন, এমনিতেই পাটের বস্তার দাম অনেক বেশি। ফলে অন্ধ্র, পঞ্জাব সহ অনেক রাজ্যই দ্রুত ঝুঁকে পড়ছে প্লাস্টিকের বস্তার দিকে। সেটাও মস্ত বড় বিপদের কারণ।