কাজ কমছে, বিক্ষোভ মৎস্যবিজ্ঞান ছাত্রদের

তাঁদের একটাই দাবি। মৎস্য দফতরের আধিকারিক বা ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সদ্য জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে হবে।

Advertisement

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:২৩
Share:

তাঁদের একটাই দাবি। মৎস্য দফতরের আধিকারিক বা ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সদ্য জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে হবে। এই দাবিতে রাজ্যের প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়িয়া ক্যাম্পাসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন মৎস্যবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা। তার জেরে সেখানকার পঠনপাঠন গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এমনকী, এর ফলে গত ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও বয়কট করেছে পড়ুয়ারা। থমকে গিয়েছে গবেষণার কাজও। ওই ক্যাম্পাসে পড়ুয়ার সংখ্যা ২২০ জন।

Advertisement

পড়ুয়াদের দাবি, নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসার পদে মৎস্যবিজ্ঞানের ছাত্রদের চাকরি পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে যাচ্ছে।

পড়ুয়াদের অভিযোগ যে সঙ্গত, সে কথা জানিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পূর্ণেন্দু বিশ্বাস জানিয়েছেন, যে সরকারি বিজ্ঞপ্তি ঘিরে পড়়ুয়ারা অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছে তা পুনর্বিবেচনার জন্য মৎস্য দফতরের সচিবকে জানানো হয়েছে। বিভাগীয় ডিন বিপুলকুমার দাস বলেন, ‘‘মৎস্য বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে পাশ করার পর ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসার ছাড়া অন্য সরকারি পদে চাকরির সুযোগ খুব বেশি নেই। সেখানেও সুযোগ কমে এলে পড়ুয়াদের সমস্যা হবে। তাই, পড়ুয়াদের ক্ষোভ সঙ্গত।’’

Advertisement

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য মৎস্য দফতরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসারদের ৬০ শতাংশ পদে এ বার মৎস্যবিজ্ঞানের পড়ুয়াদের সরাসরি নিয়োগ করা হবে। অফিসারদের বাকি ৪০ শতাংশ পদে নিয়োগ করা হবে ফিশারিজ ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টদের পদোন্নতি দিয়ে।

এত দিন ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসারদের ৭৫ শতাংশ পদে মৎস্য বিজ্ঞানের পড়ুয়াদের সরাসরি নিয়োগ করা হতো। সেই জন্যই দফতরের নতুন বিজ্ঞপ্তি নিয়ে জোরালো আপত্তি তুলেছেন মৎস্যবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা।

ক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে ফিশারিজ ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টরা তাঁদের চেয়ে পিছিয়ে। কারণ, ওই সহায়কেরা তিন বছরের বৃত্তিমূলক কোর্স পাশ করে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। সেখানে মৎস্যবিজ্ঞানের পড়ুয়াদের চার বছরের কোর্স করতে হয়। রাজ্য প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পূর্ণেন্দু বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘‘নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে চার বছরের পুরোদস্তুর স্নাতক পাঠ্যক্রম আর তিন বছরের বৃত্তিমূলক কোর্স-এর পড়ুয়াদের এক শ্রেণিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটা ঠিক হচ্ছে না।’’

প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়িয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক রমজানুল হক বলেন, ‘‘তিন বছরের বৃত্তিমূলক কোর্সে উত্তীর্ণ ফিশারিজ ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টদের ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসার পদে নিয়োগের সুবিধে দিনে দিনে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।’’ পরিচালন সমিতিতে ছাত্র প্রতিনিধি সুতনু কর্মকার জানান, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ই রাজ্যে একমাত্র ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদ (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচার রিসার্চ) অনুমোদিত। এখান থেকে চার বছরের কোর্স উত্তীর্ণরাই মৎস্যবিজ্ঞানের সাম্মানিক স্নাতক। সুতনুর প্রশ্ন, ‘‘সে ক্ষেত্রে তিন বছরের বৃত্তিমূলক কোর্স যাঁরা পাশ করছেন, তাঁদের আর আমাদের যোগ্যতা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এক হবে কেন?’’

তবে মৎস্য দফতরের একটি সূত্রে বলা হয়েছে, তিন বছরের বৃত্তিমূলক কোর্স পাশ করছেন যাঁরা, তাঁদের তো আর সরাসরি ফিশারিজ এক্সটেনশন অফিসার পদে নিয়োগ করা হচ্ছে না। বেশ কয়েক বছর ফিশারিজ ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি করার পরে তাঁদের পদোন্নতি দিয়ে অফিসার করা হচ্ছে। দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এক বার বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া মানে তা পাল্টাতে গেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ফের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করতে হবে।’’

তবে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন। মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের বক্তব্য, ‘‘আমি এখনও এই বিষয়ে কিছু জানি না, ওই পড়ুয়ারা আমার কাছে এলে কথা বলব। ওঁদের দাবি সঙ্গত হলে নিশ্চয়ই বিবেচনা করে দেখা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement