অবশেষে বেলপাহাড়ি কেন্দ্রিক প্যাকেজ ট্যুর ঘোষণা করল রাজ্য পর্যটন দফতর। আগামী ১৬ জানুয়ারি উদ্বোধনী প্যাকেজ ট্যুরে ঝাড়গ্রাম ও বেলপাহাড়ির বিভিন্ন পর্যটনস্থল বেড়ানোর সুযোগ পাবেন ২৪ জন পর্যটক। এ জন্য রবিবার পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ওয়েবসাইটে (www.wbtdc.gov.in) অন লাইনে বুকিং দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে বড়দিনের ছুটির পরে জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এমন প্যাকেজ ট্যুর কতটা ফলপ্রসূ হবে সেই প্রশ্ন উঠেছে।
আগামী ২৮ ডিসেম্বর বড়দিনের ছুটিতে প্রথমবার ঝাড়গ্রামে সরকারি প্যাকেজ ট্যুর চালু হচ্ছে। এক রাত দু’দিনের ওই প্যাকেজে বেলপাহাড়ি না থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী জঙ্গলমহল শান্ত থাকলে সরকারি পর্যটন-প্যাকেজে বেলপাহাড়ি নেই কেন? এরপরই শনিবার রাতে পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ওয়েবসাইটে পৃথক বেলপাহাড়ি প্যাকেজ ট্যুরের তালিকা ঘোষণা করা হয়। রবিবার থেকে বুকিংও শুরু হয়ে গিয়েছে। পর্যটন উন্নয়ন নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ জানুয়ারি সকালে কলকাতা পর্যটন কেন্দ্র থেকে পর্যটকদের বাতানুকুল বাসে করে সরাসরি ঝাড়গ্রামে নিয়ে আসা হবে। প্রথম দিনে ঝাড়গ্রামের আশেপাশের দর্শনীয় জায়গাগুলি দেখানো হবে পর্যটকদের। রাতের বিশেষ আকর্ষণ থাকছে আদিবাসী নৃত্য। রাজবাড়ি সংলগ্ন ট্যুরিজম কমপ্লেক্সে রাত্রিযাপন করবেন পর্যটকরা। পরদিন বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত, লালজল পাহাড়, খাঁদারানি লেক ও কাঁকড়াঝোর দেখে বাতানুকুল বাসে করে রাতে কলকাতায় ফেরা। এক রাত দু’দিনের জন্য এই সরকারি প্যাকেজ ট্যুরের জনপ্রতি খরচ (থাকা, খাওয়া ও পরিবহন) ৩,৭৫০ টাকা। এ ছাড়া ঝাড়গ্রাম-হাতিবাড়ি-রামেশ্বর ঘোরার সরকারি প্যাকেজ রেট ৩, ৬৮০ টাকা। পর্যটন দফতর সূত্রের খবর, পনেরো দিন অন্তর দু’টি প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করা হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বেসরকারি প্যাকেজ ট্যুর সংস্থাগুলির সঙ্গে কীভাবে পাল্লা দেবে সরকারি প্যাকেজ ট্যুর? কেন না, বেসরকারি সংস্থাগুলির দু’রাত তিন দিনের বেসরকারি প্যাকেজ রেট (থাকা, খাওয়া ও পরিবহন) ৩ হাজার টাকা।
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের এমডি সি মুরুগন বলেন, “সরকারি প্যাকেজ ট্যুরে পর্যটকদের থাকা ও খাওয়ার মানের গুণগত মান অত্যন্ত ভাল। আমরা কলকাতা থেকে বাতানুকুল বাসে করে পর্যটকদের নিয়ে আসছি। শুধু অনলাইন বুকিং করার পরে যাবতীয় দায়িত্ব আমাদের। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে ঝাড়গ্রামকে তুলে ধরার জন্য আরও বেশ কিছু নতুন ধরনের প্যাকেজ ট্যুর চালু করার চিন্তা ভাবনা হচ্ছে।” কিন্তু জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে স্কুল, কলেজ, অফিস খোলা থাকবে। ওই সময় বেলপাহাড়ি প্যাকেজ কতটা ফলপ্রসূ হবে জানতে চাওয়া হলে এমডি-র জবাব, “ওই সময়টা পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে জঙ্গলমহলে মকর পরব পালিত হয়। যাঁরা বেড়ানোর তাঁরা ঠিকই আসবেন।”
সরকারি প্যাকেজ ট্যুর চালু হওয়ায় বেসরকারি প্যাকেজ ট্যুর সংস্থাগুলিও পর্যটক টানতে নানা অভিনব বিষয় চালু করেছে। ঝাড়গ্রামের একটি প্যাকেজ ট্যুর সংস্থা পর্যটকদের জন্য কংসাবতী নদী বক্ষে নৌকায় বসে ছৌনাচ দেখার ব্যবস্থা করেছে। অন্য একটি সংস্থা পর্যটকদের গ্রামে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলমহলের লুপ্তপ্রায় লোকগান ও নাচ দেখাচ্ছে। আর একটি সংস্থা আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যটকদের জন্য অরণ্যশহরের রবীন্দ্র উদ্যানে ‘উইন্ট্যার ইভিনিং ফেস্টিভ্যালে’র আয়োজন করেছে। সি মুরগন বলেন, “এই সুস্থ প্রতিযোগিতাটাও জরুরি। এর ফলে ঝাড়গ্রামে আরও বেশি পর্যটক আসবেন। আখেরে আদিবাসী-মূলবাসীরাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে উপকৃত হবেন।”