কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব স্তরের প্রথম তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। যাকে ‘রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা’ বলে অভিযোগ তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং তার পরে কার্যত প্রথা ভেঙে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ফের ক্যাডার রিভিউ-এর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ মন্ত্রক। আর সেখানেই কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব স্তরের অফিসার তালিকায় বিবেচিত হল এ রাজ্যের মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্রের নাম। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর পৌরোহিত্যে ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি অব ক্যাবিনেট’ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিকেলের মধ্যেই সেই বার্তা নবান্নে পৌঁছে গিয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, খুব শিগগিরই সঞ্জয়বাবু দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে যোগ দেবেন।
সঞ্জয়বাবুর দিল্লি যাওয়ার খবর সামনে আসতে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যসচিব কে? প্রশাসনের অন্দরের খবর, দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন স্বাস্থ্যসচিব মলয় দে। প্রশাসন সূত্রে খবর, মলয়বাবু স্বরাষ্ট্রসচিব হলে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে থাকা স্বাস্থ্য দফতরের সচিব হতে পারেন রাজীব সিন্হা। বর্তমানে তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের সচিব। যদিও নবান্নের অলিন্দে পরবর্তী স্বরাষ্ট্রসচিব পদের দাবিদার হিসেবে পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পূর্ত সচিব ইন্দিবর পাণ্ডের নামও শোনা যাচ্ছে।
গত ২৩ জুন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মিবর্গ মন্ত্রক সেখানকার বিভিন্ন মন্ত্রকে সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কাজ করার জন্য ১৯৮২ এবং ১৯৮৫ ব্যাচের আইএএস অফিসারদের তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে গোটা দেশের ৩৬ জন আইএএস অফিসার সচিব হিসেবে এবং ৫৪ জন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে মনোনীত হন। কিন্তু সেই তালিকায় ঠাঁই হয়নি ১৯৮২ ব্যাচে এ রাজ্যের অফিসার সঞ্জয় মিত্রের। এমনকী, ১৯৮২ ও ১৯৮৫ ব্যাচে এই রাজ্যের মাত্র এক জন করে অফিসারের নাম ওঠে ওই তালিকায়। তুলনায় গুজরাত, পঞ্জাব, অসম ও উত্তরপ্রদেশ থেকে অনেক বেশি আইএএস ওই সুযোগ পান।
এর পরেই ‘বঞ্চনা’র প্রতিবাদ করে মুখ্যমন্ত্রী চিঠি লেখেন প্রধানমন্ত্রীকে। চিঠিতে মমতা লিখেছিলেন, যে ভাবে বাংলার অফিসারদের বাদ দেওয়া হয়েছে তা পক্ষপাতমূলক এবং এ রাজ্যের অফিসারদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার সামিল।
প্রশাসন সূত্রের খবর, ১৯৮২ ব্যাচে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ছ’জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন অবসর নিয়েছেন। দু’জন কখনও দিল্লিতে কাজ না করায় তাঁদের নাম বিবেচনাতেই আসেনি। বাকি ছিলেন সঞ্জয় মিত্র ও হেম পাণ্ডে। হেম বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। কেবল তাঁরই নাম সচিব স্তরের তালিকায় রাখে কেন্দ্রীয় সরকার।
ইউপিএ জমানায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের দফতরে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন সঞ্জয়বাবু। কাজের বিচারে তাঁর অ্যানুয়াল কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্টে (এসিআর) মনমোহন সিংহ ১০ এ ৯ দিয়েছিলেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি পেয়েছেন ১০ এ ১০। অন্য দিকে হেম পাণ্ডে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশের কাছে কাজ করার সময় ১০ এ ৯.৫ পেয়েছিলেন। আর এতেই পিছিয়ে পড়েছিলেন সঞ্জয়বাবু। যদিও শেষ পর্যন্ত কর্মিবর্গ মন্ত্রক তাঁর নাম বিবেচনায় আনে।