ধানের গুদাম গড়ার তোড়জোড় তিন ব্লকে

রাজ্য কেন ব্লকে-ব্লকে ধান রাখার গুদাম করবে তা নিয়ে যতই প্রশ্ন থাক, নদিয়ার তিন জায়গায় এক একর করে জমি বাছা হয়ে গিয়েছে। সেখানেই গড়া হবে ছোট চাষিদের ধান রাখার গুদাম।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:০৩
Share:

রাজ্য কেন ব্লকে-ব্লকে ধান রাখার গুদাম করবে তা নিয়ে যতই প্রশ্ন থাক, নদিয়ার তিন জায়গায় এক একর করে জমি বাছা হয়ে গিয়েছে। সেখানেই গড়া হবে ছোট চাষিদের ধান রাখার গুদাম।

Advertisement

শনিবার কৃষ্ণনগরে খাদ্য সুরক্ষা আইন তথা রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা মাফিক রেশন কার্ড বিলির প্রস্তুতি বৈঠক করতে এসে এ কথা জানালেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকদহ, রানাঘাট-২ এবং চাপড়া ব্লকে ধানের গুদাম তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। খাদ্য দফতরের বরাদ্দ করার টাকায় ওই সব গুদাম তৈরি করবে রাজ্য পূর্ত দফতর। নদিয়ার জন্য পূর্ত দফতরের বহরমপুর সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারের দফতর থেকে দরপত্র ডাকা হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ামক অসীমকুমার নন্দী জানান, মাসখানেক আগেই চাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনটি জায়গাতেই সরকারি জমিতে গুদাম তৈরি করা হবে। পূর্ত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এক হাজার মেট্রিক টন ধান রাখার ক্ষমতাসম্পন্ন ওই সব গুদামের জন্য গড়ে ২ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। কিন্তু নদিয়া জেলার তিনটি গুদামের জন্য ওই অঙ্কটা গড়ে ১ কোটি ৯০ লক্ষ।

Advertisement

রেশন কার্ড বিলি নিয়ে দু’দফায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং রেশন ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাদ্যমন্ত্রী। জ্যোতিপ্রিয়বাবু ছাড়াও রাজ্যের দুই মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস ও পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বাণীকুমার রায় প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী জানান, ২৭ জানুয়ারি থেকে রাজ্যে খাদ্য সুরক্ষা আইন চালু হয়ে যাবে। এই প্রকল্পে ৮ কোটি ২৫লক্ষ মানুষ সুবিধা পাবেন। তার মধ্যে ৭০ লক্ষ মানুষ বাজার দরের অর্ধেক দামে চাল-গম পাবেন। বাকিরা ২ টাকা কেজি দরে চাল ও গম পাবেন। এতে রাজ্য সরকার বছরে ৫,৬০০কোটি টাকা ভর্তুকি দেবে। ফড়েরা যদি কোনও কৃষককে অভাবী বিক্রিতেো বাধ্য করার বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রত্যাশিত ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে কিসান মান্ডি গড়েও যেখানে চালু করা যায়নি, নতুন করে গুদামের পিছনে টাকা ঢালছে কেন সরকার। নদিয়া জেলার ১৭টি ব্লকের মধ্যে হরিণহাটা, চাকদহ, রানাঘাট ১, নবদ্বীপ, চাপড়া, তেহট্ট ২, কৃষ্ণনগর ২ ও করিমপুর ২ব্লকে কিসান মান্ডি নেই। বাকি ন’টি ব্লকে ১০টি কিসান মান্ডি আছে। কিন্তু সেই সব মান্ডি এখনও চালু হয়নি। তবে ১০টি মান্ডির মধ্যে আটটি মান্ডিতে সম্প্রতি খাদ্য দফতর ধান কেনার স্থায়ী শিবির শুরু করেছে। মন্ত্রী অবশ্য দাবি করেন, পরে ওই মান্ডিগুলিতে সব্জি এবং সারও বিক্রি হবে।

ধানের পাশাপাশি চাল রাখার জন্যও রাজ্য সরকার গুদাম তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘বর্তমানে রাজ্যে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন চাল রাখার গুদামের প্রয়োজন আছে। আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে মাত্র ৬৮ হাজার টন চাল মজুত রাখার গুদাম ছিল। আমরা তা বাড়িয়ে ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন চাল মজুতের মতো গুদাম তৈরি করেছি।’’ তিনি জানান, বর্তমানে ৪ লক্ষ ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল ভাড়া করা গুদামে রাখা হচ্ছে। ওই পরিমাণ চাল রাখার মতো গুদাম তৈরির কাজও চলছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement