নোংরা জলের বোতল এনেই তুমুল বিক্ষোভ

পরিস্রুত পানীয় জল চেয়ে পুরসভায় বিক্ষোভ দেখালেন শহরের ১৩ ও ১৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে পাড়ার টাইম কলে নোংরা জল আসছে, স্থানীয় কাউন্সিলরকে বলে কোনও কাজ হয়নি এই অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার সরাসরি পুরসভায় গিয়েই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মহিলারা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:০৩
Share:

দেখুন খাওয়ার জলের কী অবস্থা! পুরপ্রধান কে পি সিংহদেওকে বলছেন বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার ছবিটি তুলেছেন সুজিত মাহাতো।

পরিস্রুত পানীয় জল চেয়ে পুরসভায় বিক্ষোভ দেখালেন শহরের ১৩ ও ১৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে পাড়ার টাইম কলে নোংরা জল আসছে, স্থানীয় কাউন্সিলরকে বলে কোনও কাজ হয়নি এই অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার সরাসরি পুরসভায় গিয়েই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মহিলারা।

Advertisement

শহরের ভাগাবাঁধ পাড়া, মুচিপাড়া, চকবাজার, ওল্ড মানবাজার রোড, পি এন ঘোষ ষ্ট্রিট, ভাগাবাঁধ পাড়া বস্তি-সহ আশপাশের এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে টাইমকলে নোংরা জল আসছে বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, কলে প্রত্যহ পুরসভা যে জল সরবরাহ করে সেই জল অত্যন্ত নোংরা। বালতিতে কিছু ক্ষণ রেখে দিলেই নীচে নোংরা জমা হচ্ছে। এই জল খাওয়া তো দূরের কথা রান্নাবান্নাতেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

পানীয় জলের উৎস বলতে পুরসভার টাইম কলের জল। সেই জলেরই এই অবস্থা। তাহলে তাঁরা পানীয় জল কোথায় পাবেন এই প্রশ্ন তুলে এ দিন দুপুরে এলাকার মহিলারা সরাসরি পুরপ্রধানকে পি সিংহ দেওয়ের কাছেই হাজির হন। তাঁদের হাতে ছিল বোতল ভর্তি পানীয় জল। পুরসভায় এসে তাঁরা সরাসরি পুরপ্রধানের সঙ্গে দেখা করতে চান। এলাকার বাসিন্দা অণুলীনা কাইতি, শান্তি ধীবর, প্রিয়া মুখোপাধ্যায়, রাধা মুখোপাধ্যায়, মঞ্জু গোস্বামীর কথায়, আমরা পুরসভায় গিয়ে পুরপ্রধানের সঙ্গে দেখা করতে চাই। কিন্তু যে ব্যক্তিকে তাঁরা পুরপ্রধানে‌র সঙ্গে দেখা করার কথা জানান, তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘‘পুরপ্রধান তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন।’’

Advertisement

এর পরই মহিলাদের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি পুরপ্রধানের ঘরে ঢুকে বোতল ভর্তি জল তাঁর হাতে তুলে দেন। অণুলীনাদেবী পুরপ্রধানকে বলেন, ‘‘এই জল আজকেই কলে এসেছে। দেখুন বোতলের নীচে কত নোংরা জমে আছে।’’ তারা বাউরি, মাধুরী বাউরি, চায়না নন্দী প্রমুখ পুরপ্রধানকে বলেন, ‘‘এই জল কী ভাবে খাওয়া যায়! প্রতিদিন এইরকম জলই আসছে। কার কাছে বলব!’’

মহিলাদের দাবি, এই জল খেয়ে বেশ কয়েক জনকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে। সকলের বাড়িতে তো ফিল্টার নেই। বস্তি এলাকার বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে এই জলই পান করছেন। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁরা পরিস্রুত পানীয় জল পাবেন না। এলাকার কংগ্রেস কাউন্সিলর সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এলাকার এই সমস্যার কথা আমি পুরসভায় একাধিকবার বলেছি। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি। যখনই জানিয়েছি তখনই বলা হয়েছে দেখা হচ্ছে। আর বর্তমান বোর্ডে তো পুরপ্রধান কে পি সিংহ দেও নিজেই জলের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনিও তো সমস্যার বিষয়ে ওয়াকিবহাল। তাহলে কেন সমস্যার কথা জেনেও পুরসভা এতদিন হাত গুটিয়ে বসেছিল তা আমাদের জানা নেই।’’

Advertisement

প্রতিবাদ জানাতে আসা মহিলাদের কাছ থেকে জলের বোতল হাতে নিয়ে পুরপ্রধান স্বীকার করেন জলে নোংরা রয়েছে। মহিলারা বলেন, প্রতিদিনই এইরকম জল আসছে। সমস্যা জেনে তিনি সমাধানেরও আশ্বাস দেন। পুরপ্রধান বলেন, ‘‘পানীয় জলের এই লাইন ১৯৬৫ সালের। সেই সময় থেকেই এই লাইনেই সরবরাহ চলছে। আমরা নতুন পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। নতুন পাইপ লাইনের সঙ্গে পুরনো পাইপ লাইনের কোনও অংশ কোথাও কোথাও জুড়তে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পুরনো পাইপ লাইনের জল পাম্প করে বের করে দেওয়া প্রয়োজন ছিল। বিভিন্ন জায়গায় কাজ চলার কারণেই কোথাও কোথাও শ্যাওলা চলে আসছে।’’ পুরপ্রধান স্বীকার করেন, এ কথা আগেই এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হলে এই বিভ্রান্তি হত না। আপাতত পানীয় জলের গাড়ি বা ট্যাঙ্কার পাঠিয়ে জল সরবরাহ করা হবে। আশ্বাস পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ‘‘পুরপ্রধান তো আমাদের বললেন, এলাকায় জলের ট্যাঙ্কার পাঠাবেন। দেখি না হলে ফের আসব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement