সবং কলেজের সামনে কংগ্রেসের অবস্থান মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন মানস ভুঁইয়া ।
সবং কলেজের সামনে কংগ্রেসের অবস্থান আর তার প্রতিবাদে কলেজ থেকে কিছু দূরে তৃণমূলের সভা নিয়ে সরগরম জেলা।
ছাত্র পরিষদ কর্মী কৃষ্ণপ্রসাদ জানা হত্যা এবং তৎপরবর্তী পুলিশি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোমবার থেকে লাগাতার অবস্থানের কর্মসূচি আগেই ঘোষণা করেছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ দিন সকাল থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের সামনে। অবস্থান মঞ্চের চারদিকে চারটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রেই জানা গিয়েছে। খড়্গপুরের এসডিও সঞ্জয় ভট্টাচার্য বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবং কলেজের বাইরে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। সভামঞ্চের কাছে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।’’
ছোট সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া, কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান, জেলা কংগ্রেস সভাপতি বিকাশ ভুঁইয়া, প্রাক্তন জেলা কংগ্রেস সভাপতি স্বপন দুবে, মহিলা নেত্রী হেমা চৌবে প্রমুখ। দেখা গিয়েছে সদ্য গ্রেফতার হওয়া ছাত্র পরিষদ নেতা তথা সবং কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিবারকেও।
তেমাথানিতে পাল্টা প্রতিবাদ সভা তৃণমূলের।
অবস্থান মঞ্চ থেকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে আব্দুল মান্নান জানান, কলেজের ছাত্র পরিষদ কর্মী কৃষ্ণপ্রসাদ জানার খুনে দোষীদের আড়াল করা, নিরাপরাধ ছাত্র পরিষদ নেতাদের গ্রেফতার-সহ একাধিক অভিযোগে এ দিন অবস্থানে বসেছি। পরিস্থিতির বদল না-হলে বিক্ষোভের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে স্বৈরাচারী বলে দাবি করে কংগ্রেস নেতারা বলেন, জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বকে মান্যতা দিতে চাইছেন। ভারতীদেবীকে বিঁধে বিধায়ক আব্দুল মান্নান বলেন, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে এই জেলার পুলিশ সুপার তাঁর মোসাহেবি করেছেন। এখন দেখছি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মোসাহেবি ভারতী ঘোষ একটু বেশিই করছেন।” সেইসঙ্গে দলীয় নেতৃত্বকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্রী বিচলিত হবেন না, জানি। তাই আইনের ও জনতার আদালতে লড়াই করতে হবে।
এ দিনের ওই অবস্থান মঞ্চেই ছিলেন ধৃত সৌমেন গঙ্গোপাধ্যায় ও সুদীপ পাত্রের বাবা-মা। সৌমেনের বিমল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ বাড়িতে এসে আমাদের মেদিনীপুরে যেতে বলেছিল। সৌমেনের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দিয়েছিল। জানি না কেন বারবার সৌমেনের সঙ্গে দেখা করতে বলছে পুলিশ। আমরা যাইনি। আদালতে শুনানির দিনেই যাব।”
সবং কলেজ থেকে কিছু দূরে তেমাথানিতে একটি সভা করে তৃণমূলও। সেই সভায় যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা তথা জেলা কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি, ব্লক সভাপতি প্রভাত মাইতিরা। সন্ধ্যায় তৃণমূলের সভা থেকে কংগ্রেসের এই অবস্থানের সমালোচনাও করা হয়। অমূল্য মাইতি বলেন, “কলেজের ঘটনায় যে ভাবে সত্য উদ্ঘাটন হচ্ছে তাতে মানস ভুঁইয়া ও তাঁর দল ভয় পাচ্ছে। তাই পুলিশ-প্রশাসনের ওপরে চাপ সৃষ্টির জন্য ধর্নায় বসেছেন। ঘটনার দিন কিন্তু পুলিশ সুপারকেই দক্ষ বলে অভিহিত করেছিলেন মানস ভুঁইয়া। এখন নোংরা ভাষায় আক্রমণ করছেন। সবংয়ের মানুষ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।”
এ দিকে সমস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন মানস ভুঁইয়া। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি কি দেশদ্রোহী, খুনি, দুষ্কৃতী? আমি জাতীয় কংগ্রেসের কর্মী। ১৯৮২সাল থেকে লড়াই করছি। এখানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছি। তবে এত পুলিশ কেন? কেন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর অর্থ কী?
এ সব চক্রান্ত।”
৭ অগস্ট ছাত্র পরিষদ কর্মী কৃষ্ণপ্রসাদ জানা খুন হলে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠীকোন্দল বলে ইঙ্গিত করেছিলেন। এর পরে ছাত্র পরিষদের কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মানস ভুঁইয়া বলেন, “সিসিটিভি ফুজেটে ছাত্র পরিষদের ছেলেদের খুন করতে দেখা গেলে আমি নিজে অবস্থান তুলে নেব। মুখ্যমন্ত্রীর পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বলব আমি আর রাজনীতি করব না।”
ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।