ঘটনার পরে দু’দিন কেটে গেলেও বেলুড়ে পারিবারিক বন্ধুকে বাড়িতে ডেকে মারধরের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত পুলিশকর্তার ছেলেকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তাদের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুদীপ্ত ঘোষ নামে ওই যুবকের পরিবারের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে। খোঁজ চলছে ওই পুলিশকর্তা শুভাশিস চট্টোপাধ্যায়ের একমাত্র ছেলে, মূল অভিযুক্ত সশীষের।
এ দিকে, বালি থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই প্রতিনিয়ত রাজ্য পুলিশের ডিআইজি শুভাশিসবাবুর স্ত্রী কস্তুরীদেবী ফোন করে হুমকি দিচ্ছেন বলেই অভিযোগ করেছেন সুদীপ্তবাবুর পরিবার। শনিবার ওই যুবকের বাবা পুলক ঘোষ বলেন, ‘‘কস্তুরীদেবী বারবার বলছেন অভিযোগ করে কোনও লাভ হবে না। তাই তা যেন তুলে নেওয়া হয়। এ বার পুলিশের কাছে এই হুমকির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাব।’’ যদিও এই অভিযোগ মানতে চাননি কস্তুরীদেবী। তিনি বলেন, ‘‘আমি কাউকে কেন হুমকি দিতে যাব? সুদীপ্ত মাথা ঘুরে বাথরুমে পড়ে গিয়েছিল। তা থেকেই এই ঘটনা।’’ সুদীপ্তবাবু এখনও বাইপাসের একটি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
সুদীপ্তবাবুর স্ত্রী মিতালি ঘোষের দাবি, এ দিন সকাল ৬টা নাগাদ কস্তুরীদেবী হাসপাতালে এসে তাঁর স্বামীকে হুমকি দিয়ে যান অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ‘‘সকালে সুদীপ্তকে দেখতে এসে জানতে পারি কস্তুরীদেবী এসে হুমকি দিয়েছেন। চিকিৎসককে বলে তাঁর ছুটি লিখিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করছেন।’’ এমনকী, বৃহস্পতিবার বিকেলে কস্তুরীদেবী যখন সুদীপ্তকে বাড়িতে ডেকেছিলেন, তখন তাঁকে দিয়ে জোর করে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে আঙুলের ছাপ দিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মিতালিদেবী। যদিও এ সমস্ত কথা মিথ্যা ভাবে রটানো হচ্ছে বলে দাবি করে কস্তুরীদেবী বলেন, ‘‘সুদীপ্তর সিটি স্ক্যান করানোর দরকার ছিল। তাই সকালে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সে তখন ঘুমোচ্ছিল। ওর সঙ্গে কোনও কথাই হয়নি।’’
ওই দিন সুদীপ্তবাবু আচমকা কেন মাথা ঘুরে বাথরুমে পড়ে গেলেন?
কস্তুরীদেবীর দাবি, সুদীপ্তবাবুর কাছ থেকে তিনি মোট পাঁচ লক্ষ টাকা পেতেন। কিন্তু ওই যুবক টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। তাই ওই দিন কড়া ভাষায় টাকা চান কস্তুরীদেবী। আর তাতেই সুদীপ্ত উত্তেজিত হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান বলেই দাবি পুলিশকর্তার স্ত্রী-র। এ দিকে, পুলিশকর্তার বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বেই সুদীপ্তর বাড়ি। বাইপাসের হাসপাতালে যেতে হলে তাঁর বাড়ির সামনে দিয়েই যেতে হয়। তা হলে হাসপাতালে ভর্তি করার পরে কেন সুদীপ্তর পরিজনদের তাঁর দুর্ঘটনার খবর দেওয়া হল? কস্তুরীদেবী বলেন, ‘‘আচমকা ওই ঘটনা ঘটে যাবে বুঝতে পারিনি। সুদীপ্তকে নিজের লোক ভাবতাম। তাই আগে ওঁর চিকিৎসার দরকার ভেবেই কাউকে খবর না দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম।’’