ছোট বিমানের ভরসায় বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ফের কলকাতাগামী সন্ধ্যার বিমান চালু হতে চলেছে। গত বছর একটি বিমান সংস্থা বাগডোগরা থেকে কলকাতা অবধি সন্ধ্যার বিমান পরিষেবা চালু করলেও যাত্রীর অভাবের কথা বলে কয়েকমাস পর তা বন্ধ করে দেয়।। এখন বিশেষ কোনও পরিস্থিতি ছাড়া বিকাল সাড়ে চারটের পর উত্তরবঙ্গ তথা বাগডোগরা থেকে আর কোনও বিমান পরিষেবা নেই।
বিমানবন্দর সূত্রের খবর, আপাতত কোচবিহার থেকে বাগডোগরা, দুর্গাপুর হয়ে কলকাতা যাওয়ার ছোট বিমানটিকে সপ্তাহে দু’দিন সন্ধ্যা ছটা নাগাদ বাগডোগরা থেকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে। এতে শিলিগুড়ি তো বটেই গোটা উত্তরবঙ্গ থেকে সন্ধ্যা নাগাদ বিমানে কলকাতা ফেরার ব্যবস্থা হল। এই বিমান পরিষেবা বাণিজ্যিকভাবে সফলভাবে হলে রাতের বিমান পরিষেবা নিয়ে অন্য বিমান সংস্থাগুলি উৎসাহিত হবে বলে মনে করছে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এআইআই)।
বিমানবন্দরের অধিকর্তা রাকেশ সহায় বলেন, ‘‘ছোট বিমানটি আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে বলে ঠিক হয়েছে। সপ্তাহের পাঁচদিন সকাল থেকে দুপুরে মধ্যে বিমানটি কলকাতা চলাচল করবে। বাকি দু’দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যায় চলবে। এতে বিকালের পরও বিমান থাকছে বাগডোগরায়।’’
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৮ মে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে ফের চালু হতে চলেছে ছোট বিমান পরিষেবা। এতে কোচবিহার, দুর্গাপুরের মত শহরের সঙ্গে জোড়া হচ্ছে বাগডোগরা, কলকাতাকে। একটি বেসরকারি বিমান সংস্থা ওই বিমান পরিষেবা চালু করছে বলে এআইআই এবং রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণাও করা হয়েছে। বুধবারও বিমান সংস্থার প্রতিনিধিরা বাগডোগরায় নিজেদের টিকিটিং কাউন্টার, চেকইন কাউন্টারের মত পরিকাঠামোগত দিকগুলি খতিয়ে দেখেছেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন এএআই-র অফিসারেরা।
এআইআই সূত্রের খবর, আপাতত বিমান সংস্থাটিকে যে সময়সূচি দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রতি শুক্রবার এবং শনিবার বিমানটি কলকাতা থেকে আড়াইটা নাগাদ ছাড়বে। দুর্গাপুর, বাগডোগরা হয়ে কোচবিহার এবং সেখান থেকে ৫টা এবং বাগডোগরা থেকে ৫-৪০ মিনিটে ছেড়ে দুর্গাপুর হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলকাতায় পৌঁছাবে। অন্য পাঁচদিন সকাল ৯টায় কলকাতা থেকে উড়ে ১১ টা নাগাদ বাগডোগরা আসবে। পরে আবার কোচবিহার, বাগডোগরা, দুর্গাপুর হয়ে দুপুর ২টায় কলকাতায় পৌঁছাবে। বাগডোগরা বিমানবন্দরের বর্তমানে ‘ওয়াচ-আওয়ার’ রাত ১০টা অবধি করেছে বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ। বায়ুসেনার আওতায় বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলটি (এটিসি) রয়েছে। বাগডোগরা থেকে দিনভর ১২-১৪টি বিমান রোজ চলাচল করে। কলকাতা, দিল্লি, গুয়াহাটি, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু যাওয়ার বিমান ছাড়াও পারো, ব্যাংকক যাওয়ার বিমান রয়েছে। তবে সবই বিকাল সাড়ে ৪টা’র অবধি চলাচল করে।
বিমানবন্দর সূত্রের খবর, আপাতত প্রথম অবস্থায় ৯টি আসন বিশিষ্ট বিমান দিয়েই পরিষেবা চালু হচ্ছে। পরবর্তীতে তা ১৯ আসনের করা হবে। প্রথমে ১২ মে চালুর দিনক্ষণ থাকলেও পরবর্তীতে তা ১৮ মে করা হয়। কোচবিহার বিমান বন্দর থেকে উড়ানের জ্বালানি কিনলে, রাজ্য সরকার আগামী পাঁচ বছর বিক্রয় কর নেবে না বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এতে প্রথম অবস্থায় ভাড়া ৫-৬ হাজার মধ্যেই রাখার চেষ্টা চলছে।
ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারের্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এতোয়া) কার্যকারী সভাপতি সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘বহু পযর্টক বিকালের পর কলকাতা বিমানে ফিরে যেতে চাইলেও ট্রেন, বাস ছাড়া তার ব্যবস্থা নেই। তেমনিই, বাগডোগরা থেকে কোচবিহারকে জোড়ায় অল্প সময়েই অনেকেই উত্তরবঙ্গের আরেকপ্রান্তে পৌঁছাতে পারবেন। বড় কথা টানা বিমানটিকে চালাতে হবে।’’ আর উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফোসিনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘কোচবিহার, নামনি অসম, জয়গাঁ, ফুন্টশেলিং-র মত বড় এলাকার ব্যবসায়ী, শিল্পপতিরা এতে উপকৃত হতে পারেন। তবে প্রথমেই যাত্রী ঠিকঠাক নেই বললে চলবে না। কিছুদিন বিমানটি চললে নিশ্চয়ই তা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হবে। এবার সরকারের তা নজর রাখা দরকার।’’