ফুল তুলতে বেরিয়ে প্রৌঢ়া খুন বাঁকুড়ায়

প্রতিদিনই প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে পুজোর ফুল তুলে আনতেন। ফিরতেন ছ’টার মধ্যে। এই রুটিনের কখনও ব্যতিক্রম ঘটেনি। মঙ্গলবার সেটাই ঘটল। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি না ফেরায় মায়ের খোঁজে বেরিয়েছিলেন ছোট ছেলে। পথে জটলা দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখেন, তাঁরই মায়ের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে টগরগাছের পিছনে! সাতসকালে বাঁকুড়া শহরের জনবহুল এলাকা, সেকেন্ড ফিডার রোডের স্টেশন সংলগ্ন গুড শেডের কাছে এই খুনের ঘটনার কথা জেনে শিউরে উঠেছেন শহরবাসী।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:৪৭
Share:

প্রতিদিনই প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে পুজোর ফুল তুলে আনতেন। ফিরতেন ছ’টার মধ্যে। এই রুটিনের কখনও ব্যতিক্রম ঘটেনি। মঙ্গলবার সেটাই ঘটল। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি না ফেরায় মায়ের খোঁজে বেরিয়েছিলেন ছোট ছেলে। পথে জটলা দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখেন, তাঁরই মায়ের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে টগরগাছের পিছনে!

Advertisement

সাতসকালে বাঁকুড়া শহরের জনবহুল এলাকা, সেকেন্ড ফিডার রোডের স্টেশন সংলগ্ন গুড শেডের কাছে এই খুনের ঘটনার কথা জেনে শিউরে উঠেছেন শহরবাসী। নিহত কল্যাণী মণ্ডল (৫০) শহরের কমরারমাঠ এলাকার বাসিন্দা। স্টেশনের কাছে রেলের একটি পরিত্যক্ত আবাসনের সামনে তাঁর দেহ মেলে। পুলিশের অনুমান, ইট-পাথর বা ওই জাতীয় কিছু ভারী জিনিস দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করা হয়েছে তাঁকে। যদিও খুনে ব্যবহৃত হাতিয়ারটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

এই ঘটনা শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনাস্থলের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে লালবাজার মোড়ে রয়েছে সিসিটিভি। ভোর থেকেই এলাকার বেশ কিছু চায়ের দোকান খুলে যায়। রিকশা চলাচলও শুরু হয়। অনেকেই প্রাতর্ভ্রমণে বেরোন। স্টেশন এলাকা বলে ভোর পাঁচটা থেকেই ভিড় শুরু হয়। যে আবাসনের পাশে প্রৌঢ়ার দেহ মিলেছে, তার গা ঘেঁষেই রেল কোয়ার্টার। সেখানকার বাসিন্দারাও কিছু টের পাননি বলে পুলিশকে জানান। এমন এক জায়গায় কী ভাবে হল খুন? বাঁকুড়ার এসপি নীলকান্ত সুধীর কুমার বলেন, “কেন খুন, খতিয়ে দেখছি। ময়না-তদন্তের রিপোর্টেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’’

Advertisement

কী হয়েছিল এ দিন? ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বেরোলেও ছ’টার পরে বাড়ি ফেরেননি কল্যাণীদেবী। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে ছোট ছেলে গুনারাম মায়ের খোঁজে বেরিয়ে রেল আবাসনে পৌঁছে ওই দৃশ্য দেখেন। কল্যাণীদেবীর পরনের কাপড় কিছুটা অবিন্যস্ত অবস্থায় ছিল। মায়ের দেহ নিজের শার্ট দিয়ে ঢেকে দেন গুনারাম। তাঁর কথায়, “মা রোজই ফুল তুলতে যেত। এমন ঘটনা যে ঘটতে পারে, তা কখনও ভাবতেই পারিনি।’’ কিন্তু কেন তাঁকে খুন হতে হল, তার উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না কল্যাণীদেবীর পরিবার। গুনারামের দাদা জয়রাম এ দিন বলেন, “কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের কোনও শত্রু নেই। মা কোনও গয়না পরেও ঘর থেকে বেরোয়নি। তা-ও কেন এ ভাবে খুন হতে হল, সেই উত্তর জানা নেই।’’

মধ্যবিত্ত এই পরিবারে অশান্তিও ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। নিহতের স্বামী ধীরেন মণ্ডল জানান, রোজের মতো এ দিনও একাই প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। এখন মনে হচ্ছে, সঙ্গে কেউ থাকলে পরিবারে এত বড় অঘটন হয়তো ঘটত না। ধীরেনবাবু বলেন, “কারও সঙ্গে আমাদের কোনও শত্রুতা নেই। কল্যাণী সবার সঙ্গে খোলা মনে মিশত বলে সকলেই ওকে খুব ভালবাসে। ও খুন হয়েছে শোনার পর প্রথমে কেউই বিশ্বাসই করতে পারেনি।’’ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিমত, কিছু লোকের কুমতলবে বাধা দেওয়াতেই খুন হতে হয়েছে কল্যাণীদেবীকে। খুনের অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন ধীরেনবাবু।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement