ভাড়া দেয় না টানা চোদ্দো মাস, কিন্তু বাড়ি ছাড়তে বললে উল্টে চোখ রাঙায় ভাড়াটে— ‘তুলে দেব বললেই হল? দু’যুগ ধরে আছি। দশ লাখ দিন, কালকেই ঘর ছেড়ে দেব।’
বাড়ি বেহাত হয়ে গেল ভাবছেন? অত সহজ নয়। সোজা আঙুলে যদি ঘি না ওঠে তো আঙুল বাঁকা করার রাস্তাও আছে।
বাড়ি ভাড়াটের নয়
ভাড়াটে যত বছরই থাকুন, বাড়ির মালিকানা বাড়িওয়ালারই। দীর্ঘ দিন থাকলে ভাড়াটের একটা আইনি দাবি জন্মে যায় বলে যে ধারণা আছে, তা পুরোপুরি ভুল। কোনও চুক্তি যদি না-ও থাকে, বাড়িওয়ালা নানা কারণে ভাড়াটেকে উচ্ছেদ করতে পারেন।
কখন উচ্ছেদ
বাড়িভাড়া আইনের ৬ নম্বর ধারায় বলাই আছে, বাড়িওয়ালা কোন-কোন কারণে ভাড়াটেকে উঠে যেতে বলতে পারেন। যে কারণটি সবচেয়ে বেশি দেখানো হয় তা হল, ওই বাড়ি বা তার ভাড়া দেওয়া অংশ বাড়িওয়ালার নিজের দরকার। এ ছাড়াও নানা রকম কারণ থাকতে পারে, যেমন:
নিয়মিত বা যথেষ্ট ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না
ভাড়াটে বাড়ি নষ্ট করছেন
বাড়িওয়ালাকে না জানিয়ে বাড়ির গঠনে অদলবদল করেছেন।
যে উদ্দেশ্যে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া, তা বাদে অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করছেন, যেমন বসবাসের জন্য ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন
বাড়ি বা তার অংশ আবার অন্য কাউকে ভাড়া দিয়ে (সাবলেট) বসে আছেন ভাড়াটে
ভাড়াটে বা তাঁর পরিবার আসলে ওই বাড়িতে থাকেন না, কিন্তু বাড়িটি দখল করে রেখেছেন
বাড়িওয়ালা বাড়িটিকে অংশত বা পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করতে চাইছেন (প্রোমোটার সম্পর্কে কোনও উল্লেখ আইনে নেই)
কী ভাবে উচ্ছেদ
এমনিতে ভাড়া বাড়াতে চাইলে বাড়িওয়ালা রেন্ট কন্ট্রোল অফিসে আবেদন করতে পারেন। তারাই বাড়ি পরিদর্শন করে ন্যায্য ভাড়া ঠিক করে দেয়। কিন্তু ভাড়াটে উচ্ছেদের ক্ষমতা তাদের নেই।
তার জন্য
এক মাস আগে নোটিস দিতে হবে ভাড়াটেকে।
তিনি তা অগ্রাহ্য করলে স্থানীয় আদালতে মামলা করতে হবে।
মামলায় হেরেও যদি ভাড়াটে বাড়ি না ছাড়েন, আদালতই তাঁর সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রতিনিধি পাঠায়। তাতেও কাজ না হলে আদালত পুলিশ দিয়ে উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিতে পারে।
বাড়ি ছাড়ার জন্য ভাড়াটে কোনও টাকা দাবি করতে পারেন না। এমন কোনও শর্তে দু’পক্ষে বোঝাপড়া হলে তা আদালতের বাইরের বিষয়।