উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগানগুলোর শ্রমিকদের জন্য বড়বাজারে ঘুরে ত্রাণ সংগ্রহ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। আগামী মঙ্গল ও বুধবার চা-শ্রমিকদের কাছে যাবেন তিনি। শনিবার বড়বাজারে সুমন বল্লভের তোলা ছবি।
তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তো আছেই। এ বার তৃণমূলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়কে নিয়ে জল্পনা আরও উস্কে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, মুকুলকে কংগ্রেসে নেওয়ার জন্য হাইকম্যান্ডের কাছে অনুরোধ করেছেন তিনি।
ইতিমধ্যে মুকুল-অনুগামীরা নতুন দল তৈরি করার অনুমোদনের জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। মুকুল অবশ্য দাবি করছেন, তিনি এখনও তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য। কয়েক দিন আগেই দমদমে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের প্রকাশ্য সভায় মুকুলকে দলে ফেরার আর্জি জানিয়েছেন তাঁর বিধায়ক পুত্র শুভ্রাংশু রায়। মুকুল তখনও দাবি করেছিলেন, তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। পিতা-পুত্রের এই হেঁয়ালির আবহে শনিবার এক প্রশ্নের জবাবে অধীর বলেন, ‘‘মুকুলবাবু আগে কংগ্রেসেই ছিলেন। তাঁকে কংগ্রেসে নিলে দলের ভাল হবে। তার জন্য হাইকম্যান্ডের কাছে অনুরোধ করেছি।’’ কিন্তু হাইকম্যান্ড এখনও মুকুল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদেশ কংগ্রেসকে জানাননি বলে অধীর জানান। এর আগে প্রদেশ কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল দলের সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধীর কাছেও একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে মুকুলকে দলে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল।
অধীরের এ দিনের বক্তব্যে এ বার কংগ্রেস শিবিরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের একাংশের মতে, সারদা-কাণ্ডে মুকুলের নাম জড়িয়েছে। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। তার আগে মুকুলকে দলে টানার চেষ্টা কতটা যুক্তিসম্মত, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। অন্য অংশের মতে, কংগ্রেস ভাঙানোয় মুকুল ছিলেন অন্যতম কারিগর। এ বার তৃণমূল ভাঙতে তাঁকে কাজে লাগানো উচিত।
অধীরের বক্তব্য নিয়ে মুকুল বলেন, ‘‘ওঁর (অধীর) কথা উনি বলেছেন! আমার কী বলার আছে? আমি তো এখনও তৃণমূলের সাংসদ।’’ আর তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘ছেলে বাবার কথা বলছেন, বাবা ছেলের কথা বলছেন। অধীর চৌধুরী মুকুল রায়ের কথা বলছেন! আমি বলছি, মুকুল গেলেন কোথায়? দলে আছেনই তো!’’