মাথায় অভিষেক, খড়্গপুরে দ্বন্দ্ব মিটবে তো!

রেলশহরে শহর তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস চৌধুরী ও জেলা নেতা তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান জহরলাল পালের গোষ্ঠীর কোন্দল বহু দিনের। পুরসভা নির্বাচনেও ফল তেমন ভাল হয়নি শাসক দলের। বিধানসভা ভোটের আগে তাই ঝুঁকি নিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০১৫ ০১:১৮
Share:

রেলশহরে শহর তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস চৌধুরী ও জেলা নেতা তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান জহরলাল পালের গোষ্ঠীর কোন্দল বহু দিনের। পুরসভা নির্বাচনেও ফল তেমন ভাল হয়নি শাসক দলের। বিধানসভা ভোটের আগে তাই ঝুঁকি নিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই খড়্গপুরে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব তিনি দিয়েছেন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাতেও বিরোধ কমবে কি! প্রশ্নটা থাকছেই, কারণ বিবদমান দুই নেতার প্রতিক্রিয়া।

Advertisement

জহরলালবাবু বলছেন, “নেত্রীর কাছে কোনওভাবে ভুল বার্তা যাচ্ছে। তাই কিছু কথা বলেছিলেন। আমি জবাবও দিয়েছি।’’ আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়াকে তিনি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর সাফাই ‘‘একজন নেতা যদি মাথার ওপরে থাকে ভুলভ্রান্তি হলে সংশোধন করা যাবে।” বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা দেবাশিসের বক্তব্য, “কালীঘাটের বৈঠক নিয়ে আমি উৎসাহিত। এত দিন খড়্গপুর শহরের বিষয়ে সহযোগিতা পেতাম না। এখন দল সহযোগিতা করছে।’’ তিনি জানিয়েছেন, অভিষেক কে আরও বড় দায়িত্ব দিলে খুশি হতেন। কোনও গোষ্ঠী কোন্দল নেই বলেও দাবি তাঁর।

জহর-দেবাশিসের বিবাদের সূচনা ২০১০ সালের পুর-নির্বাচন থেকে। গত পুরভোটের পরেও বোর্ড গড়তে বিপদে পড়েছিল তৃণমূল। পুরপ্রধান হিসাবে ‘নতুন মুখ’ প্রদীপ সরকারের নাম ঘোষণা করতে হয়েছিল দলের সর্বভারতীয় সাধারাণ সম্পাদক সুব্রত বক্সীকে। বিরোধে দাঁড়ি টানতেই শনিবার কালীঘাটের বৈঠকে খড়্গপুরে সংগঠন সাজাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেককে। দলের একাংশের মতে, বিবদমান দুই নেতার উপর নজরদারি চালাতেই এই সিদ্ধান্ত। দলীয় সূত্রে খবর, শনিবার বৈঠকে তৃণমূলনেত্রীর কাছে রীতিমতো ধমক খেতে হয়েছে শহরের নেতাদের।

Advertisement

গত জুলাইয়ে টাটা হিতাচি কারখানায় জহরবাবুর নেতৃত্বে শ্রমিক আন্দোলনে কয়েকদিন কর্মবিরতি হয়েছিল। এরপরেই এক বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্রের কাছে খড়্গপুরের কারখানায় রাজনৈতিক আন্দোলন ও পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন টাটা হিতাচির সিনিয়ার ম্যানেজার ইন্দু সিংহ। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, তাই জহরবাবুকে নেত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। একই কারণে কালীঘাটের বৈঠকে তৃণমূলের খড়্গপুর-১ ব্লক সভাপতি শক্তি মণ্ডলকেও ধমক খেতে হয়েছে।

পুরসভা দখলের পরে বিধানসভা নির্বাচনে রেলশহরকে ‘পাখির চোখ’ করেছেন মমতা। জেলার তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি নির্মল ঘোষ বলেন, “বিধানসভার আগে খড়্গপুরের মতো মিশ্র সংস্কৃতির শহরের সংগঠনকে মজবুত করতে নেত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ তাঁর ধারণা, যদি কোথাও মতানৈক্য থেকে থাকে তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কেটে যাবে।

মমতার এই সিদ্ধান্তকে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না বিরোধীরা। সিপিএমের শহর জোনাল সম্পাদক অনিতবরণ মণ্ডল বলেন, “তৃণমূলনেত্রী এখন জেলার পুলিশ সুপারের কথায় কাজ করছেন। দলের নেতারা পাত্তা পাচ্ছেন না। তাই নিজের ভাইপোকে দায়িত্ব দিয়েছেন।” একই সুরে বিজেপির জেলা সভাপতি তুষার মুখোপাধ্যায় বলেন, “পুরভোটের গোষ্ঠীকোন্দল ধামাচাপা দিতে জেলা পুলিশ সুপারকে নামানো হয়েছে। তবে অভিষেক বিধানসভায় কিছু করতে পারবেন না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement