যুগলের দেহ, সম্মান রক্ষায় খুন কি না প্রশ্ন জামুড়িয়ায়

নাইলনের দড়িতে কষে হাত-পা বাঁধা দু’জনের। শুকনো ডাল থেকে পরিত্যক্ত কুয়ো-খাদানে ঝুলছিল দু’টি দেহ। নীল জিন্‌স ও সাদা টি-শার্ট পরা যুবক, সাদা-বেগুনি সালোয়ার-কামিজের কিশোরী। পাশে পড়ে থাকা খাতায় লেখা, ‘ঘরের লোকেরা বিয়ে দিতে রাজি ছিল না। কারণ, আমরা একই পাড়ার বাসিন্দা’।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০৩:১৮
Share:

পরিত্যক্ত খাদানে পড়ে রয়েছে যুগলের দেহ। ছবি: ওমপ্রকাশ সিংহ।

নাইলনের দড়িতে কষে হাত-পা বাঁধা দু’জনের। শুকনো ডাল থেকে পরিত্যক্ত কুয়ো-খাদানে ঝুলছিল দু’টি দেহ। নীল জিন্‌স ও সাদা টি-শার্ট পরা যুবক, সাদা-বেগুনি সালোয়ার-কামিজের কিশোরী। পাশে পড়ে থাকা খাতায় লেখা, ‘ঘরের লোকেরা বিয়ে দিতে রাজি ছিল না। কারণ, আমরা একই পাড়ার বাসিন্দা’।

Advertisement

বর্ধমানের জামুড়িয়ায় বৃহস্পতিবার তপন মুর্মু (২১) ও লক্ষ্মী হেমব্রমের (১৭) ঝুলন্ত দেহ দেখে স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, এটি আত্মহত্যা নয়, খুন। উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও পরিবারের ‘সম্মান রক্ষায়’ দু’জনকে খুন করা হয়েছে কি না, উঠেছে সে প্রশ্নও। ‘সম্মান রক্ষা’য় খুনের প্রসঙ্গ ওড়ালেও তপন এবং লক্ষ্মীর মায়েরা কিন্তু খুনের সম্ভাবনা খারিজ করেননি।

ঘটনাস্থলে গেলেও আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের এসিপি (সেন্ট্রাল) জ্যোতির্ময় রায় মন্তব্য করেননি। এক পুলিশ-কর্তা বলেন, ‘‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে’’ তাঁর সংযোজন, এ ভাবে পরস্পরের হাত-পা বেঁধে আত্মঘাতী হওয়া পুরোপুরি অসম্ভবও নয়।

Advertisement

মিছিরডাঙা গ্রামের আদিবাসীপাড়ায় বাড়ি তপন ও লক্ষ্মীর। তপন দিনমজুরি করতেন। লক্ষ্মী বাড়ির কাজ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। এ দিন ভোরে খবর মেলে, গ্রাম লাগোয়া শিয়ালডাঙা এলাকায় কুয়ো-খাদানে দু’জনের দেহ মিলেছে। পাশে ২০ লাইনের যে সুইসাইড নোটটি মিলেছে, তার বয়ান বাংলায় লেখা। নীচে দু’জনের সই কিন্তু ইংরেজিতে। মাধ্যমিকের পর পড়া ছেড়ে দেওয়া তপন এবং অষ্টম পর্যন্ত পড়া ছাড়া লক্ষ্মী সইগুলো করেছিলেন কি না জানতে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিতে চাইছে পুলিশ। পড়শিদের দাবি, ওই এলাকায় রীতি রয়েছে, এক পাড়ার বাসিন্দাদের বিয়ে হবে না। তপন ও লক্ষ্মীর মধ্যে প্রণয় ছিল। নাম জানাতে অনিচ্ছুক বহু পড়শি বলেন, ‘‘পরিবারের মান রাখতেই দু’জনের এই পরিণতি হল বলে মনে হচ্ছে!’’

তপনের বাবা নবীন মুর্মু এবং লক্ষ্মীর বাবা করণ হেমব্রম তাঁদের ছেলে-মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক ছিল বলে মানতে চাননি। তপনের মা পুতুলদেবী ও লক্ষ্মীর মা রেবাদেবী জানান, এই ‘ঘনিষ্ঠতা’র কথা তাঁরা জানতেন। তাঁরা বলেন, ‘‘সবাই যা বলছে, তাতে মনে হচ্ছে ওদের খুন করা হয়েছে। পুলিশ দোষীদের খুঁজে শাস্তি দিক।’’ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনও পরিবারের তরফেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement