সুনিয়া কাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল কাঁথিতে।
কাঁথির সুনিয়ায় ঘরছাড়া সিপিএম কর্মীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগের তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে সম্প্রতি একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর ও বিচারপতি অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন রাজ্য সরকারকে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিলেন।
এ দিন মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, রাজ্যে এমন ঘটনা কেন ঘটছে রাজ্য সরকারের উচিত আদালতকে তা জানানো। জিপি (গভর্নমেন্ট প্লিডার) অভ্রতোষ মজুমদার তখন আদালতে জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত করেছে। এফআইআরে নাম থাকা তিন অভিযুক্তকে ধরাও হয়েছে।
কিন্তু, সুনিয়া-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস ভুইঁয়া এখনও অধরা। একাধিক সংবাদমাধ্যম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেও এখনও পুলিশ হদিশ পায়নি এই তৃণমূল নেতার। সিপিএম-সহ রাজ্যের সব বিরোধী দলের অভিযোগ, পুলিশের পক্ষপাতিত্বের জন্য এমন হচ্ছে। অভিযোগ উড়িয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার সুকেশকুমার জৈন বলেন, “অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি চলছে।”
গত ১৭ অগস্টের ওই ঘটনার পরে মৃতার স্বামী, দেবাশিস ভুঁইয়া-সহ ১২ জনের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনা, খুন ও গণধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন। পুলিশের দাবি ছিল, ময়নাতদন্তে গণধর্ষণ বা খুনের প্রমাণ মেলেনি। তাই ধৃত চন্দন জানা, স্বপন জানা ও মানিকলাল গিরির বিরুদ্ধে আদালতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হবে। কিন্তু, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্জশিট পেশের আগে কোনও মামলার ধারা বদলানো যায় না। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধারা বদল করা হচ্ছে না। অর্থাৎ, পুরানো ধারাগুলিতেই ধৃতদের বিচারপ্রক্রিয়া চলবে পুলিশ সূত্রে খবর।
এ দিকে, সুনিয়া-কাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার কাঁথিতে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কনভেনশন হয়। পরে তাঁদের তরফে সংগঠিত একটি মিছিল কাঁথি শহর পরিক্রমা করে। মিছিল কাঁথি থানার সামনে এলে সেখানে পথ অবরোধ করে পথসভা হয়। বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির জেলা সম্পাদিকা রীতা দত্ত। তাঁর অভিযোগ, “ঘটনার আট দিন পরেও মূল আসামীদের ধরতে পারেনি।” পরে কাঁথি থানার আইসি সুবীর রায়ের কাছে সংগঠনের তরফে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।