দিন কয়েক আগেই জেলা বিজেপিতে বড়সড় রদবদল হয়েছে। দলের নতুন জেলা কমিটি গঠন হয়েছে। নতুন জেলা কমিটির প্রথম বৈঠক হল বুধবার। মেদিনীপুর শহরের এক সভাঘরে বৈঠকটি হয়। ছিলেন দলের তরফে নিযুক্ত এ জেলার পর্যবেক্ষক গৌতম চৌধুরী। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনে দলের রণকৌশল কি হবে, মূলত সেই নিয়েই আলোচনা হয়। নেতৃত্ব বুথ সংগঠনে জোর দেওয়ারই নির্দেশ দেন। নেতৃত্বের নির্দেশ, বুথে ঝাঁকুনি আনতে হবে। বুথ ধরে ধরে কর্মী- তালিকা তৈরি করতে হবে। বৈঠক শেষে জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন, “আগে অর্ধেক বুথে আমাদের কমিটি ছিল না। এখন বেশির ভাগ বুথে কমিটি হবে। ১৫ জন সদস্য থাকলে নির্বাচিত সভাপতি করতে বলা হয়েছে।” এ বার বুথ চলো অভিযান হবে বলেও জানিয়ে দেন নেতৃত্ব।
বৈঠক শেষে বিজেপির জেলা সভাপতি ধীমান কোলে বলেন, “এদিন সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তাই সংগঠনের বেশ কিছু দিক নিয়েই আলোচনা হয়েছে।” আগামী ২৫ জানুয়ারি হাওড়ায় রাজনাথ সিংহের জনসভা রয়েছে। ওই সভায় পশ্চিম মেদিনীপুরের নেতা- কর্মীরাও যাবেন। দলের এক সূত্রে খবর, এ বার বেশ কয়েকটি ব্লক সভাপতি পদে রদবদল হবে। ব্লকে নতুন মুখ আনা হবে। কয়েকজনকে ব্লক সভাপতিকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে যে তাঁদের সরে যেতে হবে। কয়েকটি ব্লকে রদবদল যে হতে চলেছে তা মানছেন ধীমানবাবু। অবশ্য তাঁর বক্তব্য, “দলীয়স্তরে আলোচনা চলছে। কয়েকটি ব্লকে কিছু রদবদল হবে।”
গত মাসেই বিজেপির জেলা সভাপতি পদে পরিবর্তন আসে। তুষার মুখোপাধ্যায়ের পরিবর্তে দলের নতুন জেলা সভাপতি হন ধীমান কোলে। চলতি মাসের গোড়ায় জেলা কমিটিতে রদবদল আসে। দলের যুব এবং মহিলা সংগঠনের সভাপতি পদেও রদবদল হয়। সেই রদবদলের পরে জেলা বিজেপির নতুন পদাধিকার কমিটির প্রথম বৈঠক হল বুধবার।
দলের এক সূত্রে খবর, এ বার ব্লকস্তরেও দলের ভাবমূর্তি তরুণ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুরে সাংগঠনিক ভাবে বিজেপির মণ্ডল রয়েছে ২৮টি। দলের ওই সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত আলোচনা যতদূর এগিয়েছে, তাতে এই ২৮টি মণ্ডলের মধ্যে ১০- ১২টিতে সভাপতি পরিবর্তন হতে পারে। সামনের বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখাটাও দলের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ের মধ্যে দলের সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে রেলশহর খড়্গপুরে। রেলশহরে যে দলের ক্ষতি হয়েছে তা মানেন বিজেপির জেলা নেতৃত্বও। বিজেপির এক জেলা নেতার অবশ্য দাবি, “শীঘ্রই খড়্গপুরে দলের সুদিন ফিরবে!” এ দিন মেদিনীপুরের বৈঠকে দলের বাঁধন আরও শক্ত করারও নির্দেশ দেন নেতৃত্ব। বিধানসভা নির্বাচনে কি জেলায় বিজেপির পক্ষে খাতা খোলা সম্ভব? সদুত্তর এড়িয়ে বিজেপির এক নেতা এদিন বলেন, “কয়েকটি আসনে জোর লড়াই হবে। সেই মতোই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে!