সভা-সমাবেশে যুক্তিভিত্তিক বক্তব্য পেশে গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। এ জন্য বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করা হবে। কোন বাড়ির পড়ুয়া ছেলে বা মেয়েটি সাইকেল পেয়েছে, কে ইন্দিরা আবাসে বাড়ি পেয়েছেন, কে হাঁস-মুরগি-ছাগল পেয়েছেন, কে কৃষি যন্ত্র পেয়েছেন, কোন এলাকায় নিকাশি নালা হয়েছে, পানীয় জলের জন্য নলকূপ হয়েছে, সেই সব তথ্য সংগ্রহ করে জানানো হবে সভায়। এ জন্য নির্দিষ্ট ফর্মও বানিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল।
কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন। এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করছে শাসক দল। পাড়া বৈঠক থেকে বুথ-অঞ্চল-ব্লক স্তরে সম্মেলন, তারপর মহকুমা ভিত্তিক সম্মেলন, মাঝেমধ্যে রাজ্য নেতাদের এনে সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর সেই সভাতেই তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে তুলে ধরা হবে তৃণমূলের আমলে সাফল্যের কথা। কেন এই পরিকল্পনা? তৃণমূলের জেলা সভাপাতি দীনেন রায় বলেন, “৩৪ বছরে বাম অপশাসনের কথা সকলের জানা। সে কথা তো বলবই। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যে দিন রাত পরিশ্রম করে এত কাজ করছেন, সেটাও তো তুলে ধরতে হবে। নথি নিয়ে আমরা যদি বলতে পারি, অমুক সিপিএম পরিবারের পড়ুয়া মেয়েটিও সরকারের দেওয়া সাইকেল পেয়েছে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা রং দেখি না, তাহলে মানুষ বুঝতে পারবেন আমাদের বক্তব্য শুধু কথার কথা নয়।’’
দু’দিন আগেই কালীঘাটে বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী পশ্চিম মেদিনীপুরের দলীয় নেতৃত্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন আগামী বিধানসভা ভোটে জেলার ১৯টি আসনের সব ক’টিতেই জিততে হবে। ২০১১ সালে তৃণমূল ঝড়ে সারা রাজ্যে বাম দুর্গ গুঁড়িয়ে গেলেও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে ৯টিই রয়েছে বামফ্রন্টের দখলে। দু’টি কংগ্রেসের। আর তৃণমূলের দখলে রয়েছে ৮টি। পরে অবশ্য চন্দ্রকোনার সিপিএম বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এই জেলাতেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, এক সময়ের দাপুটে নেতা সুশান্ত ঘোষ, কংগ্রেস নেতা মানস ভুঁইয়ার বিধানসভা ক্ষেত্র। বাম দল এসইউসি-র সংগঠনও জেলায় বেশ কয়েকটি জায়গায় মজবুত। এক সময় জেলায় মাওবাদীরাও ছিল জোরদার। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। প্রায় সর্বত্রই তৃণমূলের দাপট। তবু ঝুঁকি নিতে চাইছে না শাসক দল। জোর দেওয়া হচ্ছে সংগঠন গোছানোয়।
ডিসেম্বরের শুরু থেকেই পাড়া বৈঠক থেকে ব্লক কমিটির সম্মেলন চলবে। ক্রমে মহকুমা ও জেলা সম্মেলন হবে। শাখা সংগঠনেরও অঞ্চল থেকে জেলা সম্মেলন হবে। এ বার রাজ্য ছাত্র যুব সম্মেলনও হবে গড়বেতায়। ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচিগুলি শেষ হবে বলে দলীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন। দীনেনবাবুর কথায়, “এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, অনেক কর্মী ভাল কাজ করেন। আবার অনেকে ভাবেন সরকার রয়েছে, ফলে চিন্তার
কারণ নেই।’’