সরকারি চেক বিলি নিয়ে দুর্নীতি, অভিযুক্ত তৃণমূল

সরকারি অনুষ্ঠানে যতক্ষণ হাজির ছিলেন বিডিও, বিধায়ক কিংবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, ততক্ষণ সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু তাঁরা বেরিয়ে যেতেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সরকারি প্রকল্পের চেক বিলি নিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই তৃণমূল নেতা খলিল মোল্লা আবার ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শ্যামল মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। যদিও বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিধায়ক। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস মিলেছে ব্লক প্রশাসনের তরফে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:২১
Share:

সরকারি অনুষ্ঠানে যতক্ষণ হাজির ছিলেন বিডিও, বিধায়ক কিংবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, ততক্ষণ সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু তাঁরা বেরিয়ে যেতেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সরকারি প্রকল্পের চেক বিলি নিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই তৃণমূল নেতা খলিল মোল্লা আবার ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শ্যামল মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। যদিও বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিধায়ক। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস মিলেছে ব্লক প্রশাসনের তরফে।

Advertisement

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ৫ জানুয়ারি ক্যানিং ১ ব্লক অফিস থেকে আড়াইশো জন গ্রামবাসীকে অধিকার প্রকল্পে ৫২,৫০০ টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল, ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পরেশরাম দাস, বিডিও বুদ্ধদেব দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিডিও ও সভাপতি বেরিয়ে যান। আরও কিছুক্ষণ পরে বেরিয়ে যান বিধায়কও।

এরপরে চেক নিয়ে চলে যান শ্যামলবাবুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই তৃণমূল নেতা বলাই মোহান্তি, খলিল মোল্লা। বিধায়ক তাঁদের উপরেই চেক বিলির দায়িত্ব দিয়ে যান বলে দলেরই একটি সূত্র জানাচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ, খলিল পরে দলীয় তহবিলে টাকা জমা দেওয়ার শর্তে চেক পাওয়া যাবে বলে জানিয়ে দেন। সুন্দিপুকুরিয়ার বাসিন্দা রশিদা মোল্লা, মিনারা মোল্লা, সুরমিলা মণ্ডলদের অভিযোগ, ওই দিনই তাঁদের কারও কাছে ৩০ হাজার, কারও কাছে ২০ হাজার টাকা বিধায়কের মাধ্যমে দলীয় তহবিলে দিতে হবে বলে সাফ জানিয়েছিলেন খলিল।

Advertisement

রশিদারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় খলিল তাঁদের চেক দিতে অস্বীকার করেন। চেক না পেয়ে রশিদা মোল্লা বিডিও ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকার প্রকল্পের টাকা পাওয়ার জন্য বেনিফিসিয়ারিদের আবেদন করতে হয়। বিধায়ক সেই আবেদন মতো সুপারিশ করলে সরকারি ভাবে বেনিফিসিয়ারিদের নামে বাড়ি বানানোর টাকা বাবদ চেক আসে। সেই মতোই ক্যানিং ১ ব্লকের আড়াইশোজনের নামেও চেক এসেছে।

Advertisement

রশিদা বলেন, ‘‘৫ জানুয়ারি যে ব্লক অফিস থেকে অধিকার প্রকল্পের চেক দেওয়া হবে তা আমি জানতাম না। গ্রামের অন্যদের কাছ থেকে জানার পরে যখন খলিল মোল্লার কাছে চেক চাইতে যাই, তখন উনি আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে চেক না দিয়ে ফিরিয়ে দেন।’’

একে তো সরকারি প্রকল্পের চেক কেন দলের একজন নেতা বিলির দায়িত্ব পাবেন, সেই প্রস্ন উঠছে, তার উপরে আছে চেকের বিনিময়ে টাকার চাওয়ার অভিযোগ।

খলিল বলেন, ‘‘যেহেতু আমি এই এলাকার দায়িত্বে আছি, তাই আমি চেকগুলি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু যাঁরা আমার কাছে চেক নিতে এসেছিলেন, তাঁরা অনেকে অপরিচিত। তাই তাঁদের চেকগুলি দিতে অস্বীকার করি। আমি কারও কাছে টাকা চাইনি। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’’

কিন্তু এলাকার লোক হওয়া সত্ত্বেও আপনি যখন বেনিফিসিয়ারিদের চেনেন না, তখন তাঁদের চেক আনলেন কেন? এ প্রশ্নের অবশ্য সদুত্তর দিতে পারেননি খলিল।

বিধায়ক শ্যামলবাবুর কথায়, সে দিন যাঁরা অনুষ্ঠানে ছিলেন না, তারা যাতে চেক পান, সে জন্য উপযুক্ত প্রমাণস্বাপেক্ষে তাঁদের চেক পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ওই দিন আমি বেরিয়ে আসার পরে কারা ওই চেক নিয়ে গিয়েছিল এবং টাকা চেয়েছিল কিনা, তা আমার জানা নেই।’’ তিনি জানান, প্রশাসনকে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলবেন তিনি।

বিডিও বুদ্ধদেব দাস বলেন, ‘‘চেক বিলি নিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement