বিশ্ববিদ্যালয়ে মারধর

হিসেবে হস্তক্ষেপ কেন, সৌরভ ফের কাঠগড়ায়

কলকাতা, যাদবপুর-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ কেন, সেই প্রশ্ন বা বিতর্কের ফয়সালা হয়নি। তার মধ্যেই এ বার প্রশ্ন উঠল, কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাবনিকাশের ব্যাপারে ছাত্র সংগঠন সরাসরি নাক গলাবে কেন?

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০১৬ ০৪:৩৬
Share:

কলকাতা, যাদবপুর-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ কেন, সেই প্রশ্ন বা বিতর্কের ফয়সালা হয়নি। তার মধ্যেই এ বার প্রশ্ন উঠল, কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাবনিকাশের ব্যাপারে ছাত্র সংগঠন সরাসরি নাক গলাবে কেন? প্রশ্নটা তুলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন (কুটা)। এবং তাদের অভিযোগের আঙুল শাসক দলের ছাত্রনেতা সৌরভ অধিকারীর দিকেই।

Advertisement

শিক্ষক সংগঠনের এই প্রশ্নের মূলে আছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ বা টিএমসিপি-র হাতে এক শিক্ষাকর্মীর নিগ্রহের অভিযোগ। হিসাবনিকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, টিএমসিপি-র সৌরভ অধিকারী এবং তাঁর দলবল মন্মথরঞ্জন বিশ্বাস নামে ওই শিক্ষাকর্মীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ। জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক-নিগ্রহে অভিযুক্ত হয়েছিলেন সৌরভ। উপাচার্য সুগত মারজিতের নির্দেশে সৌরভ সেই শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ায় সে-যাত্রায় বিষয়টি সামাল দেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রহৃত শিক্ষক দিব্যেন্দু পালের ক্ষত যে জুড়োয়নি, শিক্ষাকর্মী-নিগ্রহের প্রতিবাদে তাঁর মুখরতা তারই প্রমাণ। এ বার সৌরভের বিরুদ্ধেই শিক্ষাকর্মী-নিগ্রহের অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রহৃত শিক্ষাকর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন দিব্যেন্দুবাবু।

শিক্ষাকর্মীকে মারধরের পিছনে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবনিকাশে শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের হস্তক্ষেপ। রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযানের বরাদ্দ পাঁচ কোটি টাকার হিসেব নিয়ে তৃণমূল সমর্থিত কর্মচারী সংগঠনের সদস্য মন্মথবাবুকে গত মঙ্গলবার বেধড়ক মারধর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার হিসেবনিকেশ নিয়ে একটি বৈঠক ছিল দ্বারভাঙা ভবনে। আর্থিক গোলযোগ নিয়ে বচসা শুরু হয় সেখানে। অভিযোগ, সৌরভ দলবল নিয়ে বৈঠকে ঢুকে মন্মথবাবুকে মারধর করেন। তাঁকে মারতে মারতে ছাত্র সংসদের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে আর এক প্রস্ত নিগৃহীত করা হয়। পরে দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে জোড়াসাঁকো থানায়।

Advertisement

শিক্ষক সংগঠন কুটা-র প্রশ্ন, হিসাবনিকাশ নিয়ে বিতণ্ডা হতেই পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্র সংগঠন এ ভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে কেন?

এবং নাক গলাতে গিয়ে তারা কেন মারধর করবে শিক্ষাকর্মীকে? কুটা-র সাধারণ সম্পাদক দিব্যেন্দুবাবু শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তাঁরা এই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন উপাচার্য সুগতবাবুর কাছে। সুগতবাবুই উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়ে অভিযুক্ত সৌরভ এবং তাঁর সঙ্গীদের নিগৃহীত শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঘটনা যে সৌরভের উপরে কোনও প্রভাবই ফেলেনি, শিক্ষাকর্মীকে মারধরের ঘটনায় ফের তা প্রমাণিত।

Advertisement

ছাত্রনেতা ফের বিতর্কের মুখে পড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দলও। তৃণমূল সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের আগে

মারধরের ঘটনায় সৌরভের এ ভাবে জড়িয়ে পড়াটাকে আদৌ ভাল চোখে দেখছে না দল। সেই জন্য এ দিন দলের ছাত্র-যুব মিছিলেও সামনের সারিতে দেখা যায়নি ওই ছাত্রনেতাকে। এই ব্যাপারে সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনও প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

হিসেবে হস্তক্ষেপ এবং সৌরভ-প্রসঙ্গ ছাড়াও এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে সেনেট এবং সিন্ডিকেটে নির্বাচিত সদস্য আনার দাবি তুলে সরব হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের যৌথ মঞ্চ। এই দাবিতে আচার্য-রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান দিব্যেন্দুবাবু।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement