জীবনে কখনও লটারির টিকিট কাটেননি। কিন্তু লটারির টিকিট না কেটেও ‘লটারি’ জিতে ফেললেন আমেরিকার কানেকটিকাটের এক বাসিন্দা। তাও আবার যে সে লটারি নয়, একেবারে জ্যাকপট!
২৫৪৪ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি কোটি টাকা আয় করতে চলেছেন! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি আসলে সম্প্রতি পোর্সেলিনের একটি বাটি কিনেছিলেন।
বাড়ির কাছেই একটি দোকান থেকে বাটিটি কিনেছিলেন তিনি। দাম পড়েছিল ২৫৪৪ টাকা।
ধবধবে সাদা রঙের পোর্সেলিনের উপর নীল রঙের ফুলের কাজ করা হাতের তালুর মাপের ওই বাটিটিকে দেখতে খুবই সুন্দর।
বাটির গায়ে খোদাই করা নীল রঙের কারুকার্য তার জৌলুস আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বাড়ি ফিরে বাটিটিকে ভাল করে পর্যবেক্ষণের পর ওই ব্যক্তি বুঝতে পেরেছিলেন এটা কোনও সাধারণ বাটি নয়।
ওই ধরনের নকশা ইদানীং কালে দেখা যায় না। তিনি এক পুরাতত্ত্ববিদের কাছে বাটি নিয়ে হাজির হন। তিনি ভাল করে পর্যবেক্ষণের পর জানান সন্দেহ একদম সঠিক।
ওই বাটি ১৫ শতকের মিং সাম্রাজ্যের সময়কার। ১৩৬৮ থেকে ১৬৪৪ সাল পর্যন্ত চিনে মিং সাম্রাজ্যের আধিপত্য ছিল।
সে সময়ই রাজার জন্যই মূল্যবান এই পোর্সেলিনের বাটি ব্যবহার করা হত। পোর্সেলিনের বাসনপত্রের গায়ে আঁকা থাকত রংবেরঙের ফুলের নকশা।
ঠিক ওই বাটিটিতে যেমন নকশা আঁকা রয়েছে। পোর্সেলিনের বাসনপত্রের বহুল চল ছিল চিনে। পরবর্তীকালে ইউরোপে পোর্সেলিনের বাসনপত্র রফতানি হত চিন থেকে।
কিন্তু এ রকম দুর্মূল্য একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সুদূর চিন থেকে আমেরিকার কানেকটিকাটে কী ভাবে পৌঁছল তা ভেবেই আশ্চর্য হচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোন পথে কী ভাবে বাটিটি ওই ব্যক্তির হাতে পৌঁছল তা জানার চেষ্টা চলছে। ওই সময়ের আর কোনও দুর্মূল্য জিনিস বিচ্ছিন্ন ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে কি না তাও জানার চেষ্টা চলছে।
বাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব জানার পর তা নিলাম করার মনস্থির করেছেন ওই ব্যক্তি। আগামী ১৭ মার্চ তা নিলামে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে যাচাই করে তিনি জেনেছেন এর দাম ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার মধ্যে।
আড়াই হাজারে জিনিস কিনে রাতারাতি কোটিপতি হতে চলেছেন কানেকটিকাটের ওই ব্যক্তি।