বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। —ফাইল চিত্র।
ঢাকার প্রাক্তন পুলিশপ্রধানকে এ বার ফাঁসির আদেশ দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার হাবিবুর রহমানকে সোমবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট মাসে যখন ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চলছিল বাংলাদেশে, তখন তিনিই ছিলেন ঢাকার পুলিশপ্রধান। একই সঙ্গে ঢাকার আরও দুই প্রাক্তন পুলিশকর্তারও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ট্রাইবুনাল। তিন জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার এই ট্রাইবুনালই সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশে পতন হয় হাসিনা সরকারের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে সাময়িক আশ্রয় নেন হাসিনা। ওই আন্দোলনের সময়ে বাংলাদেশে পুলিশি দমনপীড়নের বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ওই অভিযোগগুলির তদন্ত শুরু হয়। হাসিনার বিরুদ্ধেও তদন্ত হয়। এই সংক্রান্ত মামলায় হাসিনাকে আগেই ফাঁসির আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এ বার এই সংক্রান্ত দ্বিতীয় মামলায় সাজা ঘোষণা করল ঢাকার ট্রাইবুনাল।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট (হাসিনা সরকারের পতনের দিন) ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে ছ’জনের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ঢাকার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার-সহ মোট আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। তালিকায় হাবিবুর ছাড়াও রয়েছেন প্রাক্তন যুগ্ম কমিশনার সুদীপকুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের প্রাক্তন অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শাহ আলম মুহাম্মদ আখতারুল ইসলাম এবং প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমশনার মুহাম্মদ ইমরুল। তবে এই চার জনকেই ‘পলাতক’ হিসাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।
সোমবার হাবিবুরের সঙ্গে সুদীপ এবং আখতারুলেরও ফাঁসির আদেশ দিয়েছে ট্রাইবুনাল। তিন প্রাক্তন পুলিশকর্তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইমরুলের ছ’বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ওই ট্রাইবুনাল। ওই ঘটনার শাহবাগ থানার তৎকালীন এক ইনস্পেক্টর এবং তিন কনস্টেবল বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। তাঁদের চার জনকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল।