মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশে এখনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি বলে সোমবার অভিযোগ তুলেছিল জামায়াতে ইসলামি (‘জামাত’ নামে যা পরিচিত)। বুধবার মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের আবার নতুন করে বদলির দাবি তুলল তারা।
নির্বাচনের আগে পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা রদবদল লটারির মাধ্যমে করার দাবি জানিয়েছিল জামাত। অন্তর্বর্তী সরকারও সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করে পুলিশ সুপার (এসপি) নিয়োগ দিয়েছিল। এখন সেই এসপিদেরও ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের সরানোর দাবি তুলেছে দলটি। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয়েছে। বুধবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানিয়েছে জামাতের প্রতিনিধিদল। দলের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘নির্বাচনের মাঠে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।’’
‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি’ হিসাবে চিহ্নিত জামাতের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছাত্র-যুবদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং সাতটি ইসলামপন্থী দলের সঙ্গে সমঝোতা করেছে তারা। কিন্তু জামাত নেতৃত্ব বার বার পুলিশ-প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘ ১৭ বছর পরে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং খালেদা জ়িয়ার মৃত্যুর কারণে ভোটের আগে বিএনপির পক্ষে ‘হাওয়া’ বইতে শুরু করেছে। তার আঁচ পেয়েই আগেভাগে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলেছেন জামাত নেতৃত্ব।