Pakistan on Karachi Attack

আফগানিস্তানেই চলে প্রশিক্ষণ! ভারতকে দায়ী করা হামলায় ধৃত জঙ্গির বয়ান রেকর্ড পাকিস্তানে, কী কী উঠে এল করাচি-কাণ্ডে?

শনিবার রাতে করাচির গুলিস্তান-এ-জওহর এলাকার সিন্ধু রেঞ্জার্স কম্পাউন্ডে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। তাতে তিন পাকিস্তানি সেনা এবং তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৯:০২
Share:

করাচিতে হামলার পর তৎপর পাকিস্তানি সেনা। ছবি: রয়টার্স।

করাচিতে আধাসেনার ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে পাকিস্তান। দাবি, ভারতের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এই হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের এই দাবি রবিবারই উড়িয়ে দেয় ভারত। এ বার সেই হামলার ঘটনায় একমাত্র ধৃত জঙ্গির বয়ান প্রকাশ্যে এল। সে দাবি করেছে, আফগানিস্তানে তার প্রশিক্ষণ হয়েছিল। কী ভাবে করাচির ঘাঁটিতে হামলার ছক কষা হয়, কী ভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তা-ও জানিয়েছে অভিযুক্ত ওই জঙ্গি।

Advertisement

শনিবার রাতে করাচির গুলিস্তান-এ-জওহর এলাকার সিন্ধু রেঞ্জার্স কম্পাউন্ডে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। তাতে তিন পাকিস্তানি সেনা এবং তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। এক জনকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার মূল পর্যন্ত পৌঁছোতে চাইছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন নিরাপত্তার সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, ওই ধৃত জঙ্গির নাম উসমান আলি। আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে সে পাকিস্তানে এসেছিল। উসমানের সঙ্গী ছিল আব্দুল হাদি, জানান এবং উমর ফারুক। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। ধৃত জঙ্গি স্বীকার করে নিয়েছে সে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র ছায়াগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরারের সদস্য। ওই গোষ্ঠী করাচি হামলার দায় স্বীকার করেছিল আগেই।

সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য উসমানদের প্রশিক্ষণ হয়েছিল আফগানিস্তানে। প্রশিক্ষণ দিয়েছিল উমর কারি নামের এক ব্যক্তি। আফগানিস্তানে বসে তারা বোমা তৈরি এবং বিস্ফোরক পদার্থ সংগ্রহ করেছিল বলেও দাবি ধৃতের। বয়ান অনুযায়ী, উসমান ও তার সঙ্গীরা আফগানিস্তান থেকে সাত দিন আগে চলে এসেছিল পশ্চিম পাকিস্তানের বাজৌরে। একটি নির্মীয়মাণ ভবনে লুকিয়ে ছিল তারা। সেখানে বসেই হামলার পরিকল্পনা সাজানো হয়। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ওয়াজ়িরিস্তান থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে জানিয়েছে উসমান।

Advertisement

করাচি হামলার সময় দৌড়োতে গিয়ে পাক সেনার গুলিতে জখম হয়েছিল উসমান। তাই সে ধরা পড়়ে যায়। সে জানিয়েছে, প্রথমে কয়েকটি বোমা ফেলে পাক আধাসেনা ঘাঁটির সামনে চাঞ্চল্য তৈরি করা হয়েছিল। সেই সুযোগে জঙ্গিরা গাড়ি নিয়ে দরজা ভেঙে ঘাঁটির ভিতর ঢুকে যায়। তার পর শুরু হয় গুলির লড়াই।

পাক সেনার তরফেই দাবি করা হয়, হামলার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে। রবিবার ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে সেই দাবি খারিজ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘পাকিস্তানের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। ওদের উচিত অন্যের দিকে আঙুল তোলা বন্ধ করে নিজের ভূখণ্ডের ভিতরে যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement