ইরানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অস্ট্রেলিয়া। — ফাইল চিত্র।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের দ্রুত ইরান থেকে দেশে ফিরে আসার ভাবনাচিন্তা করতে বলল অস্ট্রেলীয় সরকার। ইরানে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অস্ট্রেলিয়া। বুধবার রাতে এই সংক্রান্ত নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে সে দেশ।
বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ‘গত বেশ কিছু দিন ধরে নিরাপত্তাবিষয়ক কারণে নাগরিকদের জানানো হচ্ছে, যদি আপনি ইরানে থাকেন, তা হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখান থেকে বেরিয়ে আসুন।” পাশাপাশি, ইরানে কূটনৈতিক এবং সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আবহে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলীয় সরকার। তারা আরও জানায়, ইরানের পরিস্থিতি অস্থির। যে কোনও সময় সেখানে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। সে কথা মাথায় রেখে ইরানে থাকা নাগরিকদের আগে থেকে সতর্কবার্তা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
গত দেড় সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে ইরানে। শুরু হয় ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন তেহরানের দোকানিরা প্রথম মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ। প্রাথমিক ভাবে দেশের আর্থিক অবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চললেও ক্রমে তা রূপ নেয় তেহরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিক্ষোভে।
লোর্ডেগান, কুহদাশত এবং ইসফাহান-সহ একাধিক জায়গা থেকে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা তেহরানের রাস্তায় নেমে পড়েন। স্লোগান ওঠে, ‘স্বৈরশাসন নিপাত যাক’। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের সময় ক্ষমতাচ্যুত শাসক শাহ মহম্মদ রেজ়া পাহলভির পুত্র রেজ়া পাহলভির সমর্থনেও স্লোগান ওঠে— ‘শাহ দীর্ঘজীবী হোন’। গত কয়েক দিনে ইরানে বিক্ষোভকারীদের উপর দমনপীড়নও চলেছে। বিক্ষোভ শুরুর পরে প্রথম দশ দিনে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গ্রেফতার হয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী।