C. Rajagopalachari

দিল্লি ডায়েরি: রাজাজির মূর্তি উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গী কে

হঠাৎই রাষ্ট্রপতির চোখে পড়ল তাঁরই বাম পাশে রাজাজির পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বছর তিন-চারেকের এক খুদে। শিশুটি রাজাগোপালাচারির প্রপৌত্র, বিজেপি নেতা সি আর কেশবনের মেয়ে।

অনমিত্র সেনগুপ্ত, প্রেমাংশু চৌধুরী, অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ০৫:১৮
Share:

সোমবার রাষ্ট্রপতি ভবনে ব্রিটিশ দিল্লির স্থপতি এডউইন লাটিয়েনস-এর মূর্তির স্থানে ভারতের শেষ গভর্নর-জেনারেল চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারির মূর্তি উন্মোচন করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, এক পাশে উপস্থিত উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। হঠাৎই রাষ্ট্রপতির চোখে পড়ল তাঁরই বাম পাশে রাজাজির পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বছর তিন-চারেকের এক খুদে। শিশুটি রাজাগোপালাচারির প্রপৌত্র, বিজেপি নেতা সি আর কেশবনের মেয়ে। রাষ্ট্রপতি নিজে পর্দার দড়ি টেনে মূর্তি উন্মোচনের পরিবর্তে সেই একরত্তিকে ‘পকড়ো’ বলে দড়িটি টানতে বললেন। রাষ্ট্রপতির ডাকে খুদে তাঁর কাছে লাফাতে লাফাতে পৌঁছে গেলেও, দড়ি টানাটানি যে বিশেষ পছন্দ নয়, ‘না’ বলে সোজাসাপটা বুঝিয়ে দিল। তার পরেই পিছিয়ে মায়ের কোলে। রাষ্ট্রপতি হেসে ফেললেও, মেয়ে আর কী করে বসে সেই ভয়ে তড়িঘড়ি তাকে কোলে তুলে নিলেন মা। মায়ের কোলেই মূর্তি উন্মোচন দেখল খুদে।

আমন্ত্রিত: রাজাগোপালাচারির মূর্তি উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতির পাশে রাজাজির পরিবার।

আশা-নিরাশা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নীতি আয়োগের অধ্যক্ষ। তিনি এ বার কাকে নীতি আয়োগের সিইও করবেন, তাই নিয়ে এখন আমলা মহলে জোর জল্পনা। নীতি আয়োগের সদ্য বিদায়ী সিইও বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যম খুব আশা করেছিলেন, তাঁর মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ছে। ২০২৩-এ দু’বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল এই প্রাক্তন বাণিজ্য সচিবকে। এক বছর বেড়ে তাঁর মেয়াদ ছিল এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে খবর রটে, আর মেয়াদ বাড়ছে না। এ দিকে পরের দিন তাঁর সাংবাদিক সম্মেলন করে স্কুল শিক্ষা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের কথা। সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। আপাতত নীতি আয়োগের আমলা নিধি চিব্বের-কে সিইও পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পাকাপাকি ভাবে কাউকে নিয়োগ না করা পর্যন্ত।

রাহুল ও সেই কুকুরছানা

গাছের ডালে বল তুলে রেখে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। কুকুরছানা সেই বল কামড়ে ধরার জন্য লম্ফঝম্প করছে। শুভঙ্কর সরকার, অধীর চৌধুরী, দীপা দাশমুন্সি-সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে রাজ্যে ভোটের প্রস্তুতি ও রণকৌশল নিয়ে আলোচনা করতে কংগ্রেস হাই কমান্ড দিল্লিতে বৈঠক ডেকেছিল। বৈঠকে যোগ দিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের রাজাজি মার্গের বাড়িতে গিয়েছিলেন রাহুল। বাড়িতে ঢুকতেই সবুজ লনে রাহুলের সঙ্গে দেখা মল্লিকার্জুনের নাতনি ও তার কুকুরছানার সঙ্গে। ওই ছানাটি আবার রাহুল গান্ধীই উপহার দিয়েছিলেন। রাহুল মেতে উঠলেন ছানার সঙ্গে। মল্লিকার্জুনের ছোট্ট নাতনিকে জিজ্ঞাসা করলেন, দেখি তো কেমন ট্রেনিং দিয়েছ? রাহুল, কুকুরছানা আর কংগ্রেস সভাপতির নাতনির বেশ কিছু ক্ষণ খেলা চলল। তার পর শুরু হল বৈঠক।

মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে

যে কোনও রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত না-হলেও একটি বিষয় নিশ্চিত। সেটি হল, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে লড়াই। কেরলে এ বার বাম সরকারকে সরিয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদারও অনেক। শশী তারুর অনেক দিনই মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তবে দৌড়ে এখন তিনটি চরিত্র— জাতীয় কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক, রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ কে সি বেণুগোপাল; বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন; এবং পোড়খাওয়া নেতা রমেশ চেন্নিথালা। তিন মূর্তির লড়াইয়ের মাঝেই দিল্লিতে যন্তরমন্তর রোডে কেরালা হাউস বা কেরল সরকারের অতিথিশালার সামনে দেখা গেল বেণুগোপালের ছবি-সহ মস্ত হোর্ডিং। বেণুগোপালের জন্মদিনে তাঁর অনুগামীরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। না বলা হলেও, শুভেচ্ছার আড়ালে রাজনৈতিক বার্তাটি সবাই টের পেয়ে গেলেন।

তিহাড়ে হোলি

তিহাড় জেলে বন্দিদের কাছে হোলির উৎসব আগেই এসে পড়ল। বিজেপির উত্তর-পূর্ব দিল্লির সাংসদ তথা ভোজপুরি গায়ক-নায়ক মনোজ তিওয়ারিকে নিয়ে এই সপ্তাহে ছোট্ট গানবাজনার আসর বসিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। বন্দিদের হাতে বানানো রং খেলাও হয়েছে কারাগারে। বন্দিজীবনে এক ঝলক রঙের মধ্যে সাংসদ তিহাড়বাসীদের পরামর্শও দিলেন। “যাঁরা অপরাধ করেছেন তাঁরা অনুতাপ করুন। কিন্তু যাঁরা নিরাপরাধ তাঁরা চেষ্টা চালিয়ে যান মাথা উঁচু করে দাগহীন পোশাকে কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন