সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে এ বার প্রাক্তন অভিনেত্রী তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ২০১৫ সালে তিনি বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। তার পর থেকে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন। রূপাকে একাধিক বার বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ এবং প্রচার অভিযানে দেখা গিয়েছে। বার বার পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তবে তিনি ভোটে লড়ছেন এই প্রথম।
সোনারপুর দক্ষিণে রূপার বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেত্রী অরুন্ধতী ওরফে লাভলি মৈত্র। তিনি ওই কেন্দ্রেরই বিদায়ী বিধায়ক। তাঁদের দ্বৈরথ নিয়ে অনেকেই কৌতূহলী। আগামী ২৯ এপ্রিল সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ফল জানা যাবে ৪ মে। গত ৭ এপ্রিল রূপা বিজেপি প্রার্থী হিসাবে নিজের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। হলফনামায় জানিয়েছেন সম্পত্তির খতিয়ান।
হাতে এক লক্ষ টাকা নগদ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন রূপা। স্থায়ী আমানত, সংসদ তহবিলের অ্যাকাউন্ট-সহ ব্যাঙ্কে তাঁর মোট ১২টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড-সহ মোট ২৩টি জায়গায় বিনিয়োগ করে রেখেছেন মোটা অর্থ। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন দু’টি গাড়ির কথা। তার মধ্যে একটি ২০০৮ সালে ৭.৬২ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। ২০১৭ সালে ৬.৩৯ লক্ষ টাকা দিয়ে আর একটি গা়ড়ি কেনেন রূপা। তাঁর মোট ৪৯৫.৩৯৮ গ্রাম গয়না রয়েছে। যার বাজারদর ৬৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩০৫ টাকা। সবমিলিয়ে রূপার মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৫৮ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি হিসাবে হাওড়ায় তিনটি জমি রয়েছে রূপার। তিনি সেগুলি কিনেছিলেন ২০১৯ সালে। এ ছাড়া, টালিগঞ্জে তাঁর দু’টি ফ্ল্যাট, সোনারপুর দক্ষিণে একটি বাড়ি, বোলপুরে একটি বাড়ি রয়েছে। পশ্চিম মুম্বইয়েও রূপার নামে একটি বাড়ি রয়েছে। তাঁর মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলে রূপা মোট ৯ কোটি ৩৯ লক্ষ ৫৪ হাজার ১৫৮ টাকার সম্পত্তির মালিক।
রূপার নামে পাঁচটি এফআইআর রয়েছে যথাক্রমে বাঁশদ্রোণী থানা, আলিপুর থানা, কালীঘাট থানা, হেয়ার স্ট্রিট থানা এবং জলপাইগুড়ির মাল থানায়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা, দাঙ্গা, অবৈধ জমায়েত, আঘাত করা, খুনের চেষ্টা, ভয় দেখানো, সরকারি কর্মচারীকে আঘাত, বেআইনি ভাবে কাউকে বাধা দেওয়ার মতো মামলা তাঁর বিরুদ্ধে রুজু করা হয়েছে। বাঁশদ্রোণী থানার মামলাটিতে চার্জ গঠন হয়নি। আলিপুর থানার মামলাটির ক্ষেত্রে পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট (এফআরটি) জমা দিয়েছে। বাকি তিনটি মামলায় চার্জ গঠন হয়ে গিয়েছে।
রূপা পেশায় শিল্পী। পারিশ্রমিক থেকেই আয় হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক হয়েছেন।