West Bengal Assembly Election 2026

ছ’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের দু’টিতেই ‘শূন্য ব্যালান্স’! ঋণ নিয়ে সদ্য কিনেছেন গাড়ি, তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকার সম্পত্তি কত

২০২১ সালে বাঁকুড়া থেকে তৃণমূল সায়ন্তিকাকে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দিয়েছিল। কিন্তু তিনি ওই কেন্দ্রে হেরে যান। ২০২৪ সালে উপনির্বাচনে জিতে বরাহনগরের বিধায়ক হন। এ বারও তিনি প্রার্থী।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৭
Share:

বরাহনগরের তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

২০২৪ সালে উপনির্বাচনে জিতে বরাহনগরের বিধায়ক হয়েছিলেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬-এর ভোটেও তাঁকেই টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের বরাহনগরের প্রার্থী ভোটের আগে পুরোদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর সমর্থনে পদযাত্রা করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৪ এপ্রিল বরাহনগরের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সায়ন্তিকা।

Advertisement

২০২১ সালে বাঁকুড়া থেকে তৃণমূল সায়ন্তিকাকে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দিয়েছিল। কিন্তু তিনি ওই কেন্দ্রে হেরে যান। এর পরেই সংগঠনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিনেত্রী। ২০২৪ সালে তাপস রায় তৃণমূল ছাড়লে বরাহনগরে তাঁর শূন্য স্থানে সায়ন্তিকাকে প্রার্থী করে দল। এ বার তাঁর লড়াই বিজেপির সজল ঘোষ এবং সিপিএমের সায়নদীপ মিত্রের বিরুদ্ধে। গত পাঁচ বছরে সায়ন্তিকার সম্পত্তির পরিমাণ সামান্য বেড়েছে।

সম্পত্তি ও অর্থ

হাতে নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন সায়ন্তিকা। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন মোট ছ’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কথা। তার মধ্যে দু’টি অ্যাকাউন্টে আপাতত কোনও টাকা নেই। সেগুলি আপাতত ‘শূন্য ব্যালান্স’-এর অ্যাকাউন্ট। এ ছাড়া, স্টেট ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্টে সায়ন্তিকার ৯ লক্ষ টাকা রয়েছে। বরাহনগরের ব্যাঙ্কে ভোটের খরচ সংক্রান্ত অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১০ হাজার টাকা। গত ৩১ মার্চ ৩১ লক্ষ টাকার গাড়ি কিনেছেন সায়ন্তিকা। তার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ২৬ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছেন। এ ছাড়া অন্য একটি ব্যাঙ্কে ২৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে তাঁর। মোট ঋণের পরিমাণ ৫১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৯১১ টাকা। সায়ন্তিকার ৩.৫২ গ্রামের সোনার গয়না রয়েছে। বর্তমানে তার বাজারমূল্য ৮৪ হাজার ১৭১ টাকা বলে জানিয়েছেন তৃণমূলপ্রার্থী। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ আপাতত ৪১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৪৩১ টাকা।

Advertisement

স্থাবর কোনও সম্পত্তি নেই সায়ন্তিকার। নিজের নামে নেই বাড়িও। ২০২১ সালের হলফনামায় তিনি মোট ৪৫ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪৬২ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, গত পাঁচ বছরে তাঁর সম্পত্তি বেড়েছে চার লক্ষ টাকার কিছু বেশি। সায়ন্তিকা গত বার ৪৩ হাজার ১২৭ টাকা নগদ হাতে ভোটে নেমেছিলেন। তখন দু’টি যুগ্ম অ্যাকাউন্ট-সহ সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল তাঁর। তার মধ্যে তিনটি ব্যাঙ্কে ছিল ‘শূন্য ব্যালান্স’। একটি অ্যাকাউন্টে মাত্র এক টাকা ছিল বলে জানিয়েছিলেন সায়ন্তিকা।

গত বারের নির্বাচনের সময় অন্য গাড়ি চড়তেন তৃণমূলপ্রার্থী। ২০১৮ সালে ৪৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪৩৬ টাকার সেই গাড়িটিও কিনেছিলেন ঋণে। সায়ন্তিকা হলফনামায় জানিয়েছিলেন, তাঁর ৩.৫২ গ্রাম সোনার গয়নার মূল্য তখন ছিল ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৩৬ টাকা। গাড়ির ঋণ-সহ মোট ৪০ লক্ষ ৮৭ হাজার ২৪০ টাকার ঋণ ছিল সায়ন্তিকার।

Advertisement

অপরাধের রেকর্ড

সায়ন্তিকার নামে পুলিশের খাতায় কোনও অভিযোগ নেই। ২০২১ সালেও তাঁর নামে কোথাও কোনও এফআইআর বা মামলা ছিল না। বর্তমানেও নেই বলে হলফনামায় জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

২০০৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সেন্ট জ়েভিয়ার্স কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ পাশ (স্নাতক) করেন সায়ন্তিকা। পেশায় তিনি অভিনেত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য। সেটাই তাঁর রোজগারের উৎস।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement