Diamond Harbour Model

‘মডেল’ নিয়েই প্রশ্ন তুলে ইস্তফা দিলেন ডায়মন্ড হারবারেরই ৮ তৃণমূল কাউন্সিলর! ফলতার পর ফের বিপর্যয় অভিষেকের

ডায়মন্ড হারবার পুরসভার কাউন্সিলর সংখ্যা ১৬। প্রত্যেকেই তৃণমূলের। কিন্তু সোমবার বেশ কিছু অভিযোগ করে আট জন পদত্যাগ করেছেন। ডায়মন্ড হারবার মহকুমাশাসকের দফতরে ইস্তফাপত্র দিতে যান তাঁরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৯:৪৯
Share:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

একের পর এক বিপর্যয়। হারের পর হার। এক দিক দেখতে না দেখতেই অন্য দিকে ধস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গড়’ ফলতার পুনর্নির্বাচনে লজ্জার ফলাফলের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আরও এক ধাক্কা এল ডায়মন্ড হারবার থেকেই।

Advertisement

এ বার দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ-সহ নানা অভিযোগ করে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের আট জন কাউন্সিলর। আরও দুই কাউন্সিলরের পদত্যাগ নিয়ে চাপানউতর চলছেই। অচিরেই তৃণমূল পরিচালিত পুর-বোর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী কাউন্সিলরেরা খোঁচা দিয়েছেন অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’কে।

ডায়মন্ড হারবার পুরসভার কাউন্সিলর সংখ্যা ১৬। তাঁরা প্রত্যেকেই তৃণমূলে ছিলেন। কিন্তু সোমবার বেশ কিছু অভিযোগ করে আট জন পদত্যাগ করেছেন। ডায়মন্ড হারবার মহকুমাশাসকের দফতরে ইস্তফাপত্র দিতে যান তাঁরা। তবে পুর আইন মেনে মহকুমা শাসক পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করায় পরে পুরসভার চেয়ারম্যানকে চিঠি ধরিয়ে গিয়েছেন বিদ্রোহীরা।

Advertisement

বিদ্রোহী কাউন্সিলরেরা। —নিজস্ব চিত্র।

পদত্যাগকারী তৃণমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিব্যেন্দু হালদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মঞ্জু মণ্ডল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমাল হালদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃদুল হালদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বপন হালদার, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অলোক হালদার, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের অমিত সাহা এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেবকি হালদার। তাঁদের অভিযোগ অনেক। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আঙুল তুলেছেন অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর দিকে।

আট কাউন্সিলরের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর নামে এলাকায় অরাজকতা চলেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হলেই পুলিশ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ এবং নির্যাতন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজশ্রী দাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন তাঁরা। দুর্নীতি প্রধান ইস্যু। তা ছাড়াও ডায়মন্ড হারবার পুরসভা জুড়ে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ করেও কাজ হয়নি। এক কাউন্সিলরের কথায়, ‘‘আসলে চেয়ারম্যান নন, এখানে পুরসভা চালাত পুলিশ।’’

এই আতান্তরে মাঝে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাস বলেন, ‘‘পুরসভা এলাকার উন্নয়নের সর্বতো ভাবে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের তো মেয়াদ তো পাঁচ বছর। আমি চেয়ারম্যান। বোর্ড ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু এলাকার উন্নয়নের জন্যই সকলের প্রয়োজন ছিল।’’ যদিও কাউন্সিলরদের অভিযোগ নিয়ে তিনি আগে থেকে কিচ্ছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন। প্রণব বলেন, ‘‘এখন এ সব শুনছি।’’ তিনিও কি দল বদলানোর কথা ভাবছেন? চেয়ারম্যানের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘আপাতত তৃণমূলে আছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement