শুভমন গিল। ছবি: পিটিআই।
বিশ্বকাপের ঠিক দু’মাস আগে বাদ পড়েছিলেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দল থেকে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে শুভমনকে নিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল নির্বাচকদের। সেই শুভমনই দাপাচ্ছেন আইপিএলে। প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি। পরের ১৩টি ম্যাচে ৬১৬ রান করে ফেলেছেন। বেগনি টুপির দৌড়ে রয়েছেন ভাল ভাবেই। কী ভাবে ফর্মে ফিরলেন তিনি। প্রকাশ্যে আসল কারণ।
গত ডিসেম্বরের কথা। কিছু দিন আগেই রোহিত শর্মাকে সরিয়ে এক দিনের ক্রিকেটের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টিতেও দায়িত্ব পাওয়ার মুখে ছিলেন। আচমকাই অজিত আগরকরেরা বিশ্বকাপের দল থেকে তাঁকে বাদ দেন। শুভমন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিলেন। নিজের দলকে নিয়ে শীতের সকালে চলে যান মোহালিতে। সেখানকার নেট বোলারদের নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে নিখুঁত করে তোলার চেষ্টা করেন।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান টি-টোয়েন্টিতে নিজের ব্যাটিং দেখে। বুঝেছিলেন, ‘ভি’ অঞ্চল, অর্থাৎ ডিপ কভার থেকে মিড উইকেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাঁকে আরও বেশি শট খেলতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন শুভমন। ব্যাটের মাঝখান দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০০০টি বল খেলতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটিংয়ে আরও নিখুঁত হয়ে ওঠেন।
গত আইপিএলে ১৫ ইনিংসে ৬৫০ রান করলেও ‘ভি’ অঞ্চলে বেশি শট খেলতে পারেননি। আচমকা ক্যাচ উঠে যেত। সমস্যা খুঁজে বার করে সেটা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন শুভমন। প্রতিটি সেশনে ব্যাটের মাঝখান দিয়ে বল খেলতে। কিছুটা পাতলা ব্যাট অনুশীলনে ব্যবহার করতেন। আইপিএলে সেটাই করছেন। এ বছর তাঁর স্ট্রাইক রেট এবং ছয়ের সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি। কিন্তু কখনওই মনে হয়নি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিচ্ছেন। র্যাম্প, স্কুপ বা প্যাডল আধুনিক শট খেলেন না এখন। কপিবুক ব্যাটিংয়ে জোর দিয়েছেন। সাফল্যও মিলেছে।
স্পিনারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সুইপ শট খেলছেন শুভমন। এবং সেটাও যথেষ্ট সাবধানি ভঙ্গিতে। ১৩ ম্যাচে ৬১৬ রানই তাঁর প্রমাণ। সামনেই প্রচুর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে। আইপিএল তাঁর ভাগ্য বদলাবে কি না তা সময়ই বলবে।