বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের পরে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-কে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। যদিও ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ (অবৈধবাসী সন্দেহে ফেরত পাঠানো)-এর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছে সে দেশের সরকার। তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে বিজিবি-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা।
বুধবার ঢাকার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। সম্মেলনের মাঝেই প্রেক্ষাগৃহ চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয় নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। সালাউদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পরে বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’-এর সংখ্যা বাড়তে পারে কি না। উত্তরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সঙ্গে এটার কোনও সম্পর্ক নেই। তার পরেও বলি, আমরা গতকাল আমাদের বর্ডার গার্ড বাহিনী বিজিবি-কে নির্দেশ দিয়েছি যাতে বর্ডারগুলোতে তারা একটু এলার্ট থাকে।”
তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’ করার মধ্যে কোনও যোগসূত্র নেই বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তের সালাউদ্দিন বলেন, “সেই রকম সম্ভাবনা দেখি না। যদি (তেমন পরিস্থিতি) হয়, যাতে অ্যাড্রেস করতে পারে, সে জন্য আমরা আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেছি। তবে আমার মনে হয় সে রকম কোনও ঘটনা ঘটবে না।”
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নয়াদিল্লি এবং ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কে এক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তারেকের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিএনপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে দু’দেশই নিজেদের সম্পর্ক উন্নত করতে উদ্যোগী হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে দীনেশ ত্রিবেদীকে। বাংলাভাষী দীনেশ শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল সম্পর্কেই নয়, সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত। তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার (রাষ্ট্রদূত) হিসাবে দায়িত্বগ্রহণ করলে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।