ডাকছে মায়ানমার, ঘুরে আসুন

বাঙালি নেপাল-ভূটান যায়। অথচ মায়ানমার নিয়ে তাদের অতটা উৎসাহ নেই। দেশটা সম্পর্কে আমাদের ধারণাটাও অনেকটা ভাসা ভাসা। কিন্তু সাম্প্রতিক মায়ানমার সফরে আমাদের চোখ খুলে গেল। অনুপম স্থাপত্য আর মনমোহিনী নিসর্গ। মনে হল, সামরিক শাসনের কলঙ্ক ঘোচানোর পর পর্যটন সম্ভারে যেন অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছে মায়ানমার।

Advertisement

অজয় রায়

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০০:৩৭
Share:

বাঙালি নেপাল-ভূটান যায়। অথচ মায়ানমার নিয়ে তাদের অতটা উৎসাহ নেই। দেশটা সম্পর্কে আমাদের ধারণাটাও অনেকটা ভাসা ভাসা। কিন্তু সাম্প্রতিক মায়ানমার সফরে আমাদের চোখ খুলে গেল। অনুপম স্থাপত্য আর মনমোহিনী নিসর্গ। মনে হল, সামরিক শাসনের কলঙ্ক ঘোচানোর পর পর্যটন সম্ভারে যেন অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছে মায়ানমার।

Advertisement

মৃত্যুর আড়াই হাজার বছর পরেও ভগবান বুদ্ধ নাকি থাকেন এই মায়ানমারে, এটাই এখানকার মানুষের বিশ্বাস। তাই যে দিকে চোখ যাচ্ছে সে দিকেই দেখছি বৌদ্ধমন্দির।

এ বার ফ্ল্যাশব্যাক। মায়ানমার কনস্যুলেট অফিস থেকে ভিসা পেতে আমাদের এক-এক জনের খরচ হয়েছিল ১৪০০ টাকা। কলকাতা থেকে ইয়াঙ্গন সরাসরি বিমান চলাচল করে মাত্র দু-দিন। বিমানের পেটে সেঁধিয়ে যাওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যেই আমরা এসে পৌঁছলাম ইয়াঙ্গনে।

Advertisement

সোনার পাতে মোড়া সোয়েডাগন প্যাগোডা, সুলে প্যাগোডা, যে বৌদ্ধমন্দিরে বুদ্ধের দাঁত সংরক্ষিত রয়েছে তার নাম সুয়ে-তা-মায়াত-পায়া, এগুলি ছাড়াও ঘুরে আসতে পারেন ইনয়া হ্রদ থেকে। স্ট্রিটফুড তো রয়েছেই, রুই-কাতলাও পাবেন, আর মিলবে মায়ানমারের বিখ্যাত সোনালি চিংড়ির দুর্দান্ত পদ। বলে রাখা ভাল, ইয়াঙ্গন-সহ মায়ানমারের যে কোনও শহরে বাড়ি, হোটেলের ঘরভাড়া ভারতীয় মুদ্রায় আঠারোশো থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। রয়েছে দামি, বিলাসবহুল একাধিক স্টার হোটেলও।

ইয়াঙ্গন থেকে প্রায় ৬২৫ কিলোমিটার দূরে ম্যান্ডেল যেতে বাসে লাগে ১০ ঘণ্টা, ট্রেনে ১২ ঘণ্টা আর বিমানে ৪৫ মিনিট। এখানে যে ম্যান্ডেলে হিলস, সেখানে বসে নাকি নির্জনে সাধনা করেছিলেন গৌতম বুদ্ধ। এখানকার বৌদ্ধমন্দিরগুলোয় যেমন স্থাপত্যশৈলী, সে রকমই বৈভব। বিশেষ করে মহামুনির মন্দির, এখানে মূর্তি সোনার তৈরি, তবে মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

ম্যান্ডেলের অন্যতম প্রধান দ্রষ্টব্যগুলির মধ্যে রয়েছে সাগাইং হিলস। এখানে বৌদ্ধমন্দিরের সংখ্যা ৮৮৭। এখন আমরা বাগান শহরে, ম্যান্ডেল থেকে বাসে আসতে সময় লাগে চার ঘণ্টা আর বিমানে কুড়ি থেকে তিরিশ মিনিট।

বাগান মানেই ঐতিহ্য। নির্জন শান্ত নিসর্গ আর কাঠের তৈরি সুপ্রাচীন বৌদ্ধমন্দির। প্রবল ভূমিকম্পে এর অনেকগুলিই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, কিন্তু যে ক’টি রয়েছে সেখানে যেন কথা বলে ইতিহাস।

শরৎ সাহিত্যের মধ্য দিয়ে তৎকালীন বর্মাকে বাঙালি জেনেছিল প্লেগের দেশ হিসেবে। এর পর নাম বদলায় সে দেশের। পরে সামরিক সরকারের হাতে পড়ে তা হয়ে ওঠে নিষিদ্ধ দেশ। কিন্তু এখন ফিরেছে গণতন্ত্র। দিন সাতেক মায়ানমারে কাটিয়ে শরীর আর মন জুড়ে এক অদ্ভুত মুগ্ধতা! নতুন নির্বাচিত সরকার যদি সামান্য উদ্যোগীও হয়, তবে নেপাল-ভুটানের পাশাপাশি এই দেশেও পর্যটকের ঢল নামবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement