Spy-Cam Porn Industry

চিনের হোটেলে হোটেলে গোপন ক্যামেরায় যুগলদের রেকর্ডিং! বিক্রি হচ্ছে পর্ন-বাজারে, ধরল বিবিসি

এরিক হংকংয়ের বাসিন্দা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কৈশোর থেকে পর্ন সাইটে এ সব ভিডিয়ো দেখতেন তিনি। বলা ভাল, আকর্ষিত হতেন। কেন, সেই কারণও জানিয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৫
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন পর্ন সাইটে চোখ রাখেন এরিক (পরিবর্তিত নাম)। এটা তাঁর অনেক দিনের অভ্যাস। ২০২৩ সালের এক সন্ধ্যায় এ ভাবেই একটি পর্ন সাইটে ক্লিক করতেই বিস্মিত হন তিনি। সেখানে যে ভিডিয়োটি চলছে, তাতে পাত্র-পাত্রী তিনি এবং তাঁর বান্ধবী। অতীতে দক্ষিণ চিনের শেনঝেনের একটি হোটেলে উঠেছিলেন। সেই ঘরের ঘটনাই এখন বাইরে। বিবিসির রিপোর্ট বলছে, এরিক একা নন। তাঁর মতো বহু তরুণ-তরুণী চিনের হোটেলে গিয়ে এ ভাবেই প্রতারিত হয়েছেন। এরিকের মতো অনেকেই চিনের স্পাই ক্যাম পর্ন ব্যবসার গ্রাহক থেকে রাতারাতি শিকার বনে গিয়েছেন।

Advertisement

বিবিসি বলছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চিনে সক্রিয় রয়েছে এই স্পাই ক্যাম পর্ন ব্যবসা। সে দেশে পর্ন প্রযোজনা এবং বাণিজ্যিক ভাবে বিতরণ নিষিদ্ধ। তার পরেও বিভিন্ন হোটেলের কামরায় গোপন ক্যামেরা বসিয়ে অতিথিদের গোপন মূহূর্ত বন্দি করা হয়। তার পর তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি, লাইভ স্ট্রিমিংয়েরও ব্যবস্থা রেখেছে কিছু অনলাইন পর্ন সংস্থা। অর্থাৎ হোটেলের ঘরে অতিথি-দম্পতি প্রবেশ করার পর থেকে চালু হয়ে যায় ক্যামেরা। তাঁরা কী করছেন, না করছেন, সবের লাইভ দেখতে পান উপভোক্তারা।

গত কয়েক বছর এই সমস্যা নিয়ে বার বার আলোচনা হয়েছে সমাজমাধ্যমে। ঘরে গোপন ক্যামেরা রয়েছে কি না, তা কী করে বোঝা যাবে, তা বাতলেছেন বিশেজ্ঞেরা। চিনে গত এপ্রিলে সরকার নতুন নীতি এনেছে। তারা জানিয়েছে, হোটেল মালিকদের নিয়মিত তল্লাশি করতে হবে যে, কোনও ঘরে গোপন ক্যামেরা রয়েছে কি না। কিন্তু তার পরেও বিষয়টি বন্ধ হয়নি। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস দেখেছে, হোটেলের ঘরে গোপন ক্যামেরায় বন্দি ভিডিয়ো পর্ন সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সেগুলি রমরমিয়ে চলছে। এর মধ্যে টেলিগ্রামেও বেশ কিছু ভিডিয়ো দেখা গিয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ছ’টি পর্ন ওয়েবসাইট এবং অ্যাপের বিজ্ঞাপন রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি হোটেলের ঘরে অতিথিরা কী করছেন, তার লাইভও দেখা যায়। সাত মাস ধরে নজরদারি চালিয়ে বিবিসির প্রতিবেদন দেখেছেন, বিভিন্ন হোটেলের বিভিন্ন ঘরে প্রায় ৫৪টি ক্যামেরা গোপনে বসানো রয়েছে। সাত মাস সময়ে হোটেলের ঘরে প্রায় হাজার জন অতিথির গোপন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।

Advertisement

এরিক হংকংয়ের বাসিন্দা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কৈশোর থেকে পর্ন সাইটে এ সব ভিডিয়ো দেখতেন তিনি। বলা ভাল, আকর্ষিত হতেন। কেন, সেই কারণও জানিয়েছেন। এরিকের কথায়, ‘‘বাজারচলতি পর্ন ছবি সাজানো, কৃত্রিম মনে হত। তাই গোপন ক্যামেরায় বন্দি বাস্তবের ছবি পর্ন সাইটে দেখতাম।’’ কিন্তু যখন বান্ধবীর সঙ্গে নিজেকে দেখেছিলেন পর্দায়, তখন আর বসে থাকতে পারেননি। বান্ধবীকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আর তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি তরুণী।

চিনে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ। সেই মাধ্যমেই নিজের ভিডিয়ো দেখেছিলেন এরিক। অভিযোগ, চিনের বহু মানুষ নিষিদ্ধ এই মাধ্যমেই নিষিদ্ধ পর্ন দেখেন, বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকা নামে এক এজেন্টের সঙ্গে পরিচয় হয় বিবিসির প্রতিবেদকের। নাম, পরিচয় গোপন করে আকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান তিনি। প্রতিবেদক জানতে পারেন, আকার চ্যানেলের সদস্য সংখ্যা অন্তত ১০ হাজার। ২০১৭ সাল থেকে প্রায় ছ’হাজারটি ভিডিয়ো রয়েছে সেই চ্যানেলের আর্কাইভে। ১৮ মাস ধরে অনুসন্ধান করে আকার মতো কয়েক ডজন এজেন্টের সন্ধান পেয়েছে বিবিসি। এই ব্যবসা চালিয়ে আকা গত বছর এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা আয় করেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে টেলিগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের জানানো হয়, তাদের প্ল্যাটফর্মে গোপন ক্যামেরায় তোলা পর্ন ছড়ানো হচ্ছে। প্রথমে তারা কোনও পদক্ষেপ করেন। পরে রিপোর্ট তাদের হাতে তুলে দেওয়া হলে তারা জানায়, এই ধরনের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ করে টেলিগ্রাম। এটাই তাদের রীতি। আকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রতিবেদক। তিনি কোনও জবাব দেননি। যে অ্যাকাউন্টে তিনি বিজ্ঞাপন দিতেন টেলিগ্রামে, সেটি ডিলিট করে দেওয়া হয়।

এরিক এখনও দেখেন আকার সেই সাইট। এই ভেবে যে আবার হয়তো ভেসে উঠবে সেই ভিডিয়ো।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement