(বাঁ দিকে) মার্কিন গোয়েন্দাদের হেফাজতে হোয়াইট হাউসে হামলাকারী যুবক। ছবি: সমাজমাধ্যম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
হোয়াইট হাউসের নৈশভোজের অনুষ্ঠানে ঠিক কী ঘটেছিল, সাংবাদিক বৈঠকে তা বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প। অভিযুক্ত বন্দুকবাজকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর আনুমানিক বয়স ৩০ বছরের কাছাকাছি। জানা গিয়েছে, যুবক ক্যালিফর্নিয়ার বাসিন্দা। ঘটনার পর হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন খোদ ট্রাম্পই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত বার্ষিক নৈশভোজের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২৬০০ অতিথি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এ ছাড়া, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স-সহ একাধিক মার্কিন উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও নেতা নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন। আচমকা সেখানে গুলি চলে। ঘটনার পর ট্রাম্প অভিযুক্তের একটি ছবি নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সেখানে খালি গায়ে এক যুবককে উপুড় করে শুয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর হাত এবং পা বাধা, চোখ বন্ধ।
ট্রাম্প জানান, বন্দুকবাজের হাতে একাধিক অস্ত্র ছিল। তাঁর কথায়, ‘‘খুব অসুস্থ একটা লোক ছিল। ঘরটা সুরক্ষিতই ছিল, তবে ও ৫০ গজ দূর থেকে ছুটে আসে। সিক্রেট সার্ভিস খুব দ্রুত কাজ করেছে।’’ ধস্তাধস্তির মাঝে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে ট্রাম্প জানান, তিনি বুলেটনিরোধক বর্ম পরে ছিলেন। তাই নিরাপদেই আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বন্দুকবাজকে লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি গুলি করা হয়। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে অনেক দিন ধরেই একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষিত নতুন বলরুম তৈরির কথা বলে আসছিলেন ট্রাম্প। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। শনিবারের ঘটনার পর ওই ঘরের প্রয়োজনীয়তার কথা ফের উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা খুব একটা সুরক্ষিত ভবন নয়। আমি এটা বলতে চাইনি, কিন্তু এই কারণেই আমরা যা পরিকল্পনা করেছি, সেগুলির বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’’ বলরুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ওটা আরও অনেক বড় ঘর হবে এবং আরও সুরক্ষিত হবে। ড্রোননিরোধক ব্যবস্থা থাকবে। বুলেটনিরোধক কাচে ঢাকা থাকবে। আমাদের বলরুমটা দরকার। সেই কারণেই সিক্রেট সার্ভিস, সেনা এটা চাইছে।’’ হোয়াইট হাউসে ৯০ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বলরুম তৈরি করা হচ্ছে। আগেই সে কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। বড় বড় অনুষ্ঠানের জন্য ওই ঘর ব্যবহার করা হবে।
এর আগে তাঁর উপর যে হামলার চেষ্টাগুলি হয়েছে, সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেগুলির কথাও বলেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘গত দু’বছরে আমাকে মারার চেষ্টা এই প্রথম হল না। বাটলার, পেনসিলভেনিয়া, ফ্লরিডায় কী হয়েছে, সকলে দেখেছে।’’ উল্লেখ্য, পেনসিলভেনিয়ার হামলায় ট্রাম্প রক্তাক্ত হয়েছিলেন। গুলি তাঁর কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল।
শনিবারের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই। ডিরেক্টর কাশ পটেল এ বিষয়ে যে কোনও তথ্য কারও জানা থাকলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছেন। আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। শীঘ্রই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হবে। ঠিক কী কারণে এই হামলা, নিশানায় মার্কিন প্রেসিডেন্টই ছিলেন কি না, এখনও স্পষ্ট নয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, যুবককে রাইফেল নিয়ে যেতে দেখেছিলেন। সিক্রেট সার্ভিস তাঁকে গুলি করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে প়ড়েন। তবে যুবক আগে গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।