(বাঁ দিকে) ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। ছবি: রয়টার্স।
সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে আসা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর চোখের হালকা নীল রঙের অ্যাভিয়েটরের প্রসঙ্গে বুধবাদ দিনভরই আলোচনা চলেছে সমাজমাধ্যম এমনকি মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও। বিকেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তৃতাতেও উঠে এল সেই রোদচশমার প্রসঙ্গ!
ট্রাম্প বুধবার বলেন, ‘‘গতকাল আমি তাঁকে (মাক্রোঁ) সুন্দর সানগ্লাস পরে দেখেছি। কী হয়েছে?’’ ঘটনাচক্রে, সমাজমাধ্যমেও বহু মানুষ দাভোসের অধিবেশন কক্ষের ভিতরে ফরাসি প্রেসিডেন্টের রোদচশমা পরা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই তাঁকে কটাক্ষও করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, বুধবার ফরাসি সরকার জানিয়েছে, চোখের সমস্যার কারণে নীল আভাযুক্ত অ্যাভিয়েটর ধাঁচের সানগ্লাস পরে অধিবেশন মঞ্চে উঠেছিলেন মাক্রোঁ। আল্পস পর্বতমালার বরফে বিচ্ছুরিত হয়ে আসা আলোকরশ্মি থেকে চোখের রক্তজালিকাকে রক্ষা করতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
মাক্রোঁ অবশ্য বুধবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তাঁর ১৮ মিনিটের বক্তৃতাপর্বে একবারও নীল অ্যাভিয়েটর-প্রসঙ্গ তোলেননি। কয়েকটি ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মাক্রোঁ চোখের রক্তজালিকার একটির নালী ফেটে গিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে ‘সাবকনজাংটিভাল হেমোরেজ’ বলা হয়। আঘাত, কাশি, হাঁচি, উচ্চ রক্তচাপ অথবা রক্ত পাতলা করার ওষুধের কারণে এটি হতে পারে। সাধারণত দু’সপ্তাহের মধ্যে কোনও চিকিৎসা ছাড়াই এটি সেরে যায়। কেউ কেউ অবশ্য ফরাসি প্রেসিডেন্টের রোদচশমাকে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখেছেন। তাঁদের মতে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা ও বাড়তি শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারির জবাবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছেন।