(বাঁ দিকে) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেছিলেন, ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তেহরানের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল। শনিবার তা নিয়ে ফের নতুন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানালেন, ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের একটি ‘ধারণা’ তাঁকে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটির আক্ষরিক শব্দচয়ন দেখার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। অর্থাৎ, ইরানের কাছ থেকে লিখিত ভাবে এখনও কোনও প্রস্তাব পাননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। প্রস্তাবে লিখিত আকারে কী কী বলা হয়, কোন শব্দ ব্যবহার করা হয়, তার উপর আমেরিকা-ইরানের চুক্তি নির্ভর করছে। একইসঙ্গে ইরানের উপর ফের হামলা শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স ইরানের এক বরিষ্ঠ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে দেওয়া প্রস্তাবে হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ওই জলপথে আমেরিকা যে অবরোধ চালাচ্ছে, তা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান। এ ছাড়া, ইরানের যে পারমাণবিক প্রকল্পে আমেরিকার আপত্তি, তা নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তেহরান। প্রাথমিক ভাবে এই প্রস্তাবই ট্রাম্প ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরান তার কৃতকর্মের যথেষ্ট মূল্য এখনও দেয়নি।
শনিবার ফ্লরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে মায়ামির বিমানে ওঠার আগে ট্রাম্পকে সাংবাদিকেরা ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জবাবে বলেন, ‘‘ওরা আমাকে একটা প্রস্তাবের ধারণা দিয়েছে। এ বার সেটা লিখিত আকারে দেবে।’’ সমাজমাধ্যমে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে এর পর ফের মুখ খোলেন ট্রাম্প। জানান, ইরান কোনও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দেবে বলে তিনি কল্পনাই করতে পারছেন না। এখনও তাদের যথেষ্ট মূল্য চোকাতে হয়নি।
ইরানের বিরুদ্ধে কি ফের হামলা চালাতে পারে আমেরিকা? ট্রাম্প সে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘আমি সেটা সংবাদমাধ্যমে বলতে চাই না। যদি ওরা দুর্ব্যবহার করে, যদি খারাপ কিছু করে, তখন দেখা যাবে। তবে সম্ভাবনা একটা আছেই।’’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। দীর্ঘ দিন দু’পক্ষের সংঘাত হয়েছে। হরমুজ় প্রণালীতে বাধা পেয়েছে পণ্য চলাচল। তাতে বিশ্বের বাজারে জ্বালানি সঙ্কট ক্রমে তীব্র হয়েছে। আমেরিকার আইন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনও সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালাতে পারেন না প্রেসিডেন্ট। সেই সময়সীমা ১ মে শেষ হয়েছে। ট্রাম্প কংগ্রেসে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হয়েছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও সমঝোতায় আসতে পারেননি তাঁরা।