বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় ঘোড়সওয়ার বাহিনী। বৃহস্পতিবার। ছবি: পিটিআই।
অবৈধ অভিবাসীদের নির্বিচার গ্রেফতারির প্রতিবাদে গত সাত দিন ধরে ক্ষোভে ফুটছে লস অ্যাঞ্জেলেস-সহ আমেরিকার বিভিন্ন শহর। পরিস্থিতি সামলাতে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০০০ সেনা (ন্যাশনাল গার্ড) এবং ৭০০ মেরিন নামিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রেফতার করা না হলেও গোলমাল ছড়ানোর অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় ও আটক অভিযান চলছে। আজ সেই প্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, লস অ্যাঞ্জেলেস ‘এখন নিরাপদ’। সেনা নামানোয় তা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরাক কিংবা সিরিয়ার যে সংখ্যক সেনা পাঠানো হয়েছিল, তার থেকেও বেশি সেনা নামানো হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসে। ইরাকে পাঠানো হয়েছিল ২৫০০ সেনা, আর সিরিয়ায় ১৫০০ সেনা।
ক্যালিফর্নিয়ার গভর্নর থেকে শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডেমোক্র্যাট মেয়র— অনেকেরই অভিযোগ, এই সেনা মোতায়েনের জেরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে তাতে পাত্তা না দিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সেনেটের এক সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে দেশ জুড়ে বাহিনী নামানো হবে। ট্রাম্পের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট আবার বলেন, ক্যালিফর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ‘এই ধোঁয়ায় পাখার বাতাস’ করছেন। হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘উন্মত্ত জনতা আমেরিকাকে গ্রাস করবে, তা কিছুতেই মেনে নেবেন না ট্রাম্প।’’
গত কালের পরে আজও লস অ্যাঞ্জেলেসে রাত ৮টা থেকে কার্ফু জারি ছিল। তবু পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সিটি হলের কাছে ঘোড়সওয়ার ও পদাতিক বাহিনী অভিযানে নামে।
গত শুক্রবার থেকে চলতে থাকা এই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪০০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে ৩৩০ জন অবৈধ অভিবাসী। গোলমাল ছড়ানো ও পুলিশের উপরে হামলার অভিযোগে আরও ১৫৭ জনকে ধরা হয়েছে। দু’জনের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তাদের খুনের চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে