(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। এই আবহে ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য সময়ের কথা জানিয়ে দিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এবিসি নিউজ়’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আগামী সপ্তাহে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে এই চুক্তি বা বোঝাপড়া হতে পারে।
ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সামরিক বিজয়ের চেয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করা ভাল হবে।” তার পরেই ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ইরানের সঙ্গে কবে বোঝাপড়ায় আসবে আমেরিকা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার মনে হয় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।” এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ় প্রণালী থেকে অবরোধ উঠে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের র পথে ট্রাম্পের অন্যতম ‘বাধা’ হয়ে উঠেছে লেবানন সমস্যা। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটির দক্ষিণ ভাগে দীর্ঘ দিন ধরেই সক্রিয় ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আগে থেকেই সংঘর্ষ চলছে ইজ়রায়েলের। আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝে হিজ়বুল্লা এবং ইজ়রায়েলের সংঘর্ষও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, চুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনা করতে চাইলে লেবাননের উপর হামলা বন্ধ করতে হবে। এই অস্থিরতার মাঝে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিচ্ছে ইরান, এমন খবরও ছড়িয়েছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, আলোচনা স্থগিত রাখার কোনও সিদ্ধান্ত ইরান তাঁকে জানায়নি।
এই আবহে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপরে চটেছেন ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ফোনালাপের সময়ে নেতানিয়াহুকে তিনি বলেছেন, “আপনি একটা বদ্ধ উন্মাদ। আমি না -থাকলে তো আপনি জেলে যেতেন।” সোমবার খবর ছড়ায়, লেবাননের রাজধানী বেইরুটে হামলার ছক কষেছে ইজ়রায়েল। আমেরিকার থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার জন্য তারা অপেক্ষা করছে। এমন এক পরিস্থিতিতে সোমবার ফোনে কথা হয় ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর। বেইরুটে যে হামলা করা যাবে না, তা-ও ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।