ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল চিত্র।
ওয়াশিংটন ডিসি ও লন্ডন, ২ ফেব্রুয়ারি: এক দিকে অস্বস্তি-ভুল স্বীকার-পদত্যাগ, অন্য দিকে তড়পানি-হুমকি-চোখরাঙানি। এপস্টিন ফাইলের শেষ দফা প্রকাশ্যে আসার পরে শোরগোলের মধ্যে এই দু’রকম প্রবণতাই সামনে আসছে। তড়পানির তালিকায় প্রথম নামটি অবশ্যই ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই মুহূর্তে তাঁর রাগ ঠিকরে পড়েছে গ্র্যামি পুরস্কার রজনীর সঞ্চালক ট্রেভর নোয়ার উপরে।
রবিবার রাতে বসেছিল গ্র্যামির আসর। সেখানে সেরা গানের জন্য পুরস্কার পান বিলি এইলিশ। বিলির নাম ঘোষণা করে ট্রেভর রসিকতার সুরে বলেন, ‘‘অভিনন্দন বিলি! এই গ্র্যামিটা সব শিল্পীই চান, যেমন ভাবে গ্রিনল্যান্ডকে চাইছেন ট্রাম্প। কারণও আছে। এপস্টিন তো নেই, ক্লিন্টনকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জন্য একটা নতুন দ্বীপ চাই তো!’’ এর পরেই সমাজমাধ্যমে ফুঁসে ওঠেন ট্রাম্প। লেখেন, ‘‘গ্র্যামি পুরস্কারটা জঘন্য, বসে দেখা যায় না!...আর এই ট্রেভর নোয়া, সে যেই হোক না কেন, এ তো অস্কারের জিমি কিমেলের মতোই ফালতু!’’ জিমি কিমেলও আর এক আমেরিকান সঞ্চালক, যাঁকে ট্রাম্প একেবারেই পছন্দ করেন না। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর এবং বিল ক্লিন্টনের নামে যা বলা হয়েছে, সেগুলো ‘অসত্য’। তার পরেই ফের লিখলেন, ‘‘ভুল হল! আমি ক্লিন্টনের কথা বলতে পারি না। কিন্তু আমি কোনও দিন এপস্টিনের দ্বীপে বা তার ধারেকাছে যাইনি। আমার নামে এর আগে এমন অভিযোগও কেউ করেনি।’’ ট্রেভরের নামে মোটা অঙ্কের মামলা ঠোকার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘প্রস্তুত হও নোয়া! তোমার সঙ্গে কিছু মজা তো আমি করব।’’
ব্রিটেনের লেবার দলের নেতা লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের জন্য অবশ্য এই এপস্টিন-পর্বটা মোটেই মজার থাকেনি। আগের বছরই এপস্টিন ফাইলে নাম আসার জন্য তাঁকে আমেরিকায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। এ বার আবারও নাম ওঠায় ম্যান্ডেলসন দল থেকেও ইস্তফা দিলেন। এপস্টিন ফাইলের শেষ পর্বে এপস্টিনের কাছ থেকে ২০০৩-২০০৪ সাল নাগাদ তিন দফায় ৭৫ হাজার পাউন্ড অর্থ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যান্ডেলসনের নামে। সামনে এসেছে তাঁর অন্তর্বাস পরা ছবিও। ম্যান্ডেলসন আত্মপক্ষ সমর্থনে এটুকুই বলেছেন যে, এই ছবি কবে কোথায় উঠেছিল তিনি মনে করতে পারছেন না। টাকার বিষয়টাও মনে নেই, তাঁর কাছে কোনও নথিও নেই। ম্যান্ডেলসনের কথায়, ‘‘যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ভুয়ো বলেই আমার বিশ্বাস। সেটা আমাকেই খতিয়ে দেখতে হবে। তার জন্য আমি আমার দলের অস্বস্তি আর বাড়াতে চাই না।’’ রবিবারই দলীয় নেতৃত্বকে চিঠি লিখে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
আত্মপক্ষ সমর্থন নয়, সরাসরি ভুলই স্বীকার করেছেন নরওয়ের যুবরানি মেত্তে-মারিত। এমনিতেই মেত্তে-র প্রথম পক্ষের পুত্রের নামে ধর্ষণ-নিগ্রহ সহ ৩৮টি অভিযোগের মামলা চলছে। তার মধ্যেই এসে পড়ল এপস্টিন আর মেত্তের মধ্যে ২০১১-২০১৪-র সময়ে এক গোছা ই-মেল। চিঠির সুর বেশ দুষ্টু-মিষ্টি গোছের। যেমন একটি চিঠিতে এপস্টিন একটি বিজ্ঞানের নিবন্ধ পাঠিয়ে বলছেন, ‘‘আশা করি তোমায় দুঃখ দিলাম না!’’ উত্তরে মেত্তে বলছেন, ‘‘একেবারেই না! বরং আমার মগজ উত্তেজিত হল!’’ আর একটি চিঠিতে এপস্টিন লিখছেন, ‘‘হন্যে হয়ে বউ খুঁজছি!’’ মেত্তের উত্তর, ‘‘শুনে আমি স্তম্ভিত।’’ মেত্তের সঙ্গে এপস্টিনের বন্ধুত্বের ব্যাপারটা আগেই জানাজানি হয়েছিল। চিঠিগুলো সামনে আসার পরে কিছুই অস্বীকার করেননি মেত্তে। বরং ভুল স্বীকার করে বলেছেন, ‘‘বিষয়টা নিয়ে আমি অনুতপ্ত। খুবই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছি। আমি যে তার গতিবিধি খতিয়ে দেখিনি, সে কেমন লোক বুঝতে পারিনি, সে দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। এপস্টিনের কাছে পীড়িতদের প্রতি আমার পূর্ণ সহমর্মিতা রয়েছে।’’ মেত্তের সঙ্গে একমত নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী।
শান্তিতে নেই সুইডেনের রাজপরিবারও। এপস্টিন ফাইলে নাম রয়েছে যুবরানি সোফিয়ার। একাধিক বার এপস্টিনের সঙ্গে সোফিয়ার দেখা হয়েছিল বলে প্রকাশ। অস্বস্তিতে পড়ে রাজপরিবার শুধু জানিয়েছে, যা কিছু হওয়ার রাজপরিবারে আসার আগে হয়েছে। সোফিয়ার সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক সামাজিক যোগাযোগের বেশি নাকি এগোয়নি। সংবাদ সংস্থা
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে