ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ফ্রান্সের ওয়াইন এবং শ্যাম্পেনের উপর শুল্ক চাপাবে আমেরিকা! সোমবার নিজেই এই কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি ফ্রান্সের ওয়াইন এবং শ্যাম্পেনের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব।” সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প এ-ও দাবি করেছেন যে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ তাঁর ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেবেন।
ট্রাম্প ফ্রান্সের উপর শুল্ক আরোপের কারণ প্রকাশ্যে না-জানালেও মনে করা হচ্ছে, ফ্রান্স তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিতে রাজি না-হওয়ার জন্যই চটেছেন ট্রাম্প। তাই প্যারিসের উপর চাপ তৈরি করতেই তিনি ফ্রান্সের ওই দুই বিখ্যাত সুরার উপরে শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছেন। ফ্রান্সের সম্মতির অপেক্ষা না-করেই জানিয়ে দিয়েছেন, মাক্রোঁ বোর্ড অফ পিস-এ যোগ দেবেন। এই বিষয়ে প্যারিসের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের দাবি, ‘বোর্ড অফ পিস’ বিশ্বে শান্তি বজায় রাখার জন্য কাজ করবে। প্রাথমিক ভাবে তা শুরু হবে গাজ়া দিয়ে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গাজ়ার সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে অন্য আঞ্চলিক বিরোধগুলি নিয়েও কাজ করবে ‘বোর্ড অফ পিস’। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিলে প্রাথমিক ভাবে তিন বছরের জন্য এই গোষ্ঠীর সদস্যপদ পাওয়া যাবে। তবে তা স্থায়ী নয়। স্থায়ী সদস্যপদের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। ১০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ন’হাজার কোটি টাকা) অনুদান হিসাবে দিলে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর স্থায়ী সদস্য হওয়া যাবে।
ইতিমধ্যেই ভারত, পাকিস্তান, হাঙ্গেরি, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইটালি, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, কানাডা, মিশর, তুরস্ক-সহ বিশ্বের ৬০টি দেশকে বোর্ড অফ পিস-এ যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের আশঙ্কা, নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন বোর্ড অফ পিস তৈরি করে রাষ্ট্রপুঞ্জের ক্ষমতাকে খর্ব করতে চাইছেন ট্রাম্প। ফ্রান্সের আশঙ্কাও তেমনই। প্রসঙ্গত, ফ্রান্স রাষ্ট্রপুঞ্জের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য। প্যারিসের বক্তব্য, তারা বিবাদ বা সঙ্কট থামাতে এত দিন ধরে চলে আসা নিয়ম বজায় রাখারই পক্ষপাতী। তাই আমেরিকার প্রস্তাবে ফ্রান্স রাজি হবে না বলে জানায় সংবাদসংস্থা এএফপি। মনে করা হচ্ছে, ফ্রান্সের তরফ থেকে সেই ইঙ্গিত পেয়েই তাদের দুই পণ্যের উপর শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করে রাখলেন ট্রাম্প।