Donald Trump on Iran

আজ রাতেই আবার জোরদার হামলা! ‘ভেনে‌জ়ুয়েলার মতোই ইরানের তেলের ভান্ডারের দখল নেব’, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বুধবার রাতের মার্কিন হানার জবাবে বৃহস্পতিবার সকালে জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে তেহরান হামলা চালায়। তার পরেই ট্রাম্প ইরানের তেল এবং গ্যাসের ভান্ডার দখলের হুমকি দেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ২১:৩১
Share:

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ভেনেজ়ুয়েলার মতোই আমেরিকা এ বার ইরানের তেল এবং গ্যাসের ভান্ডার দখলে নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘ভবিষ্যতে ইরানের প্রধান তেল ও গ্যাস কেন্দ্রগুলির নিয়ন্ত্রণ কব্জা করবে আমেরিকা। যার মধ্যে খার্গ দ্বীপও (হরমুজ় প্রণালী থেকে ৪৮৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, পারস্য উপসাগরে ইরানে প্রধান তৈলকেন্দ্র) রয়েছে। ভেনেজুয়েলায় যে ভাবে করেছে সে ভাবেই।’’

Advertisement

বুধবার রাতের মার্কিন হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার সকালে জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে তেহরান হামলা চালায়। ইরান সামরিক অভিযান শুরু করতেই তড়িঘড়ি কিছু সময়ের জন্য কুয়েত বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘণ্টা কয়েক পরেই সমাজমাধ্যমে ট্রাম্পের হুঁমকি— ‘‘আমেরিকা আজ রাতে খুব কঠোর ভাবে আঘাত করবে।’’ আমেরিকার ধারাবাহিক হানায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ইতিমধ্যেই মারাত্মক ভাবে দুর্বল হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রেডার, বিমান বিধ্বংসী এবং অন্যান্য সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বেশিরভাগ আক্রমণাত্মক সক্ষমতা শেষ হয়ে গিয়েছে।’’ এর পরেই তাঁর ঘোষণা, ‘‘অত্যন্ত দ্রুত কোনও এক সময়ে আমরা খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল পরিকাঠামো দখল করব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেব। ঠিক যেমন আমরা ভেনেজ়ুয়েলায় করেছি। যার ফলাফল ভেনেজ়ুয়েলা এবং আমেরিকা দু’দেশের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হয়েছে।’’

জানুয়ারির গোড়ায় দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজ়ুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছিল মার্কিন সেনা। নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল ভেনেজ়ুয়েলার তেলভান্ডারের। এর পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হয়েছিল মার্কিন সেনার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। হামলা শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প বারবার খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করেছেন। ছোট হলেও কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি ইরানের তেল বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র। সে দেশের অপরিশোধিত তেলের অধিকাংশই রফতানি হয় খার্গ থেকে। প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল এই দ্বীপ থেকে রফতানি করা হয়। যার বড় অংশ চিনে যায়। ট্রাম্পের আক্রমণের পরোক্ষ লক্ষ্য তাই বেজিং বলেও মনে করছেন অনেকে। সংঘাতের এই আবহে ইরানের ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পশ্চিম এশিয়ায় ১৮টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কুয়েত ও বাহরিনের বিমান ঘাঁটি এবং মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদর দফতর রয়েছে। ইরানি বাহিনী জর্ডনের আল-আজ়রাক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায়ও স্বীকার করেছে।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement