—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
গত বছর মুম্বই থেকে আটক করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু ১০ মাসের মধ্যেই আবার মুম্বইয়ে সন্ধান মিলল অনুপ্রবেশকারী সেই বাংলাদেশি দম্পতির!
বাংলাদেশি নাগরিক লিটন শাহিদ মোল্লা (৪৩) এবং তাঁর স্ত্রী পপি বেগমকে (৩৭) ২০২৫ সালের জুলাই মাসের গোড়ায় নভি মুম্বই থেকে পাকড়াও করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আবার অনুপ্রবেশ করে মুম্বইয়ে বসবার শুরু করেন তাঁরা। মঙ্গলবার ওই দম্পতিকে মুম্বই থেকেই আবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আদতে বাংলাদেশের নোয়াখালি জেলার বাসিন্দা লিটন এবং পপিকে ২০২৫ সালে শিল্পশহর নভি মুম্বইয়ের কোপারখাইরানে থেকে আটক করা হয়েছিল। ১৪ জুলাই তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। এ বার তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে মুম্বইয়ের দাদর থেকে। মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ‘বিশেষ সূত্র’ মারফত খবর পেয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই বাংলাদেশি দম্পতি পাসপোর্ট, ভিসা বা বৈধ কোনও ভ্রমণ নথি ছাড়াই দালালের সহায়তায় সীমান্ত পেরিয়ে আবার ভারতে অনুপ্রবেশ করার পরে কোপারখাইরানে এলাকায় লুকিয়ে বসবাস করছিলেন। এর আগে অবৈধ ভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে মুম্বই পুলিশের ‘ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (এফআরও) তাঁদের চিহ্নিত করেছিল। ফলে সহজেই শনাক্ত করা যায় লিটন এবং তাঁর স্ত্রীকে!
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে দেশ জুড়ে জনবিন্যাস চরিত্র অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রভাব’ পর্যালোচনার জন্য গত মাসেই একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কমিটির চেয়ারম্যান হবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকর। গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিক ভাবে দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে (বিশেষত বাংলাদেশ লাগোয়া পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি) গিয়ে অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাসের চরিত্র বদলের অভিযোগ তুলেছেন শাহ। দাবি করেছেন, এর নেপথ্যে ‘নির্দিষ্ট ছক’ কাজ করছে। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লালকেল্লার বক্তৃতাতেও এসেছিল অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস বদলের প্রসঙ্গ।