নানা সময়ে বিভিন্ন প্রান্তের নানা বয়সি মহিলাদের ফাঁদে ফেলতেন জেফ্রি এপস্টিন। —ফাইল চিত্র।
এপস্টিন-কাণ্ডে প্রকাশ্যে সরব হলেন নির্যাতিতাদের একাংশ। গত কাল আমেরিকায় ছিল ‘সুপার বোল সানডে’। সেই খেলা দেখতে টিভির সামনে বসেন না এমন আমেরিকান খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। সেই খেলাকেই এ বার হাতিয়ার করেছেন এপস্টিন-কাণ্ডের নির্যাতিতারা। একটি সংগঠনের উদ্যোগে বেশ কয়েক জন নির্যাতিতাকে নিয়ে বানানো হয়েছে একটি বিজ্ঞাপন। কাল খেলার মাঝে সেই বিজ্ঞাপনই দেখেছেন আমেরিকার সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ। বিজ্ঞাপনটিতে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির কাছে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত বাকি ফাইল দ্রুত প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন ওই নির্যাতিতারা। আর সেই সঙ্গেই দেশের মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
এপস্টিন-কাণ্ডে নির্যাতনের শিকার ছিল অসংখ্য নাবালিকা। তাঁরা এখন প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদেরই অনেকে সামনে এসে বিজ্ঞাপনে মুখ দেখিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে হওয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। যে সময়ে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, সেই কিশোরীবেলার ছবি হাতে নিয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। তাঁরা নিজেদের ছোটবেলার ছবি হাতেই বলেছেন, ‘এই মেয়েটির বিচার চাই’। বিজ্ঞাপনটির মূল বক্তব্য, ‘এ বার সত্য প্রকাশের সময় এসেছে’। নির্যাতিতাদের বক্তব্য, আমেরিকান কংগ্রেসে পাশ হওয়া এই সংক্রান্ত আইনেই বলা হয়েছিল, এপস্টিনের যৌন অপরাধ সংক্রান্ত সমস্ত নথি প্রকাশ করতে হবে বিচার বিভাগকে। সেই আইন মতোই বাকি ফাইলও যাতে দ্রুত প্রকাশ্যে আনা হয়, সেই দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতারা।
এর মধ্যেই নিউ ইয়র্কের কারাগারে বন্দি অবস্থায় এপস্টিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য ঘনিয়েছে। নিউ ইয়র্ক প্রদেশের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিসে থাকা পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, সরকারি ভাবে এপস্টিনের মৃত্যুদিনের এক দিন আগে তাঁর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ম্যানহাটনের পুলিশ জানিয়েছিল, ২০১৯ সালের ১০ অগস্ট, কারাগার কক্ষে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল এপস্টিনকে। পরে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যদিও অ্যাটর্নি অফিসে আসা প্রথম তথ্যে বলা হয়েছিল, ৯ অগস্ট নিজের সেল থেকে অচেতন এপস্টিনকে উদ্ধার করা হয়। পরে সেটির সংশোধন হয়। পুলিশ তদন্ত করে জানিয়েছিল, এপস্টিনের মৃত্যুর ঘটনায় কোনও রহস্য নেই। আত্মহত্যা করেছিল সে। তবে তার মৃত্যুতে পুলিশি গাফিলতির প্রশ্ন উঠেছিল।
এই পরিস্থিতিতে প্রয়াত এপস্টিনের সঙ্গিনী ঘিজ়লেন ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, আমেরিকান কংগ্রেসের রুদ্ধদ্বার শুনানিতে সে কোনও প্রশ্নের জবাব দিতে চায় না। যৌন চক্রের জন্য নারী পাচারের দায়ে বর্তমানে টেক্সাসের জেলে বন্দি ঘিজ়লেন। তার আইনজীবীরা জানান, আমেরিকান সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মেনে নীরব থাকার অধিকার প্রয়োগ করতে চায় ঘিজ়লেন। যদিও ঘিজ়লেন জবানবন্দি দিলে তা সন্দেহের চোখে দেখতে আমেরিকান কংগ্রেসের নজরদারি কমিটিকে অনুরোধ করেছেন জেফ্রির যৌন চক্রের শিকার মহিলারা। আমেরিকান কংগ্রেসের শুনানির সময়ে ঘিজ়লেনের আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, দু’জনেই নির্দোষ। একমাত্র ঘিজ়লেনই সম্পূর্ণ চিত্র জানাতে পারে। তার ক্ষমাভিক্ষার আবেদন মঞ্জুর হলে সে এই কাজ করতে রাজি।
এপস্টিন-কাণ্ড নিয়ে এ বার মুখ খুলেছেন ব্রিটেনের যুবরাজ উইলিয়াম এবং তাঁর স্ত্রী, যুবরানি ক্যাথরিন। এপস্টিনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উঠেছে প্রয়াত রানি এলিজ়াবেথের ছেলে অ্যান্ড্রুর। উইলিয়াম-সহ রাজ পরিবারের অনেকেই অ্যান্ড্রুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষেও নাকি সওয়াল করছেন। এ বার রাজ পরিবারের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ যুবরাজ এবং যুবরানি উদ্বিগ্ন। এপস্টিনের নাম না নিয়েই ওই বিবৃতিতে নির্যাতিতাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। এই ঘটনায় বেশ কয়েক জন ব্রিটিশ কূটনীতিকের নাম আগেই জড়িয়েছে। এ বার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মারের চিফ অব স্টাফ মরগ্যান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন। আমেরিকায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম তিনিই সুপারিশ করেছিলেন। এপস্টিনকে সংবেদনশীল নথি পাচারের অভিযোগ রয়েছে পিটারের বিরুদ্ধে।
শুধু ব্রিটেনই নয়, নরওয়ের নামও জড়িয়েছে গোটা ঘটনায়। ইরাক এবং জর্ডনে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মোনা জুল-কে তাঁর পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়ের বিদেশ মন্ত্রক, মোনার সঙ্গেও এপস্টিনের যোগাযোগ ছিল বলে সম্প্রতি জানা যায়।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে