(বাঁ দিকে) আলেক্সি নাভালনি। (ডান দিকে) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল চিত্র।
‘ডার্ট ফ্রগ’-এর বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছিল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক তথা বিরোধী দলের নেতা আলেক্সি নাভালনিকে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে একযোগে অভিযোগের আঙুল তুলল ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি-সহ ইউরোপের পাঁচটি দেশ। এই পাঁচ দেশের বিদেশমন্ত্রীদের দাবি, নাভালনির শরীরে ‘এপিবেটিডাইন’ নামে এক ধরনের বিষ পাওয়া গিয়েছে। যে বিষ পাওয়া যায় দক্ষিণ আমেরিকার ‘ডার্ট ফ্রগ’ নামে এক ধরনের ব্যাঙের দেহে। তাঁদের আরও দাবি, ওই বিষ আমেরিকায় প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া যায় না। আর এখান থেকেই সন্দেহ বাড়ছে বলেই মন্তব্য পাঁচ দেশের।
ব্রিটেনের বিদেশ দফতরের তরফে এক বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা নিশ্চিত আলেক্সি নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করেই খুন করা হয়েছে। বিরোধী দলের ওই নেতাকে ভয় পাচ্ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।’’ ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডস যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্দেশপ্রণোদিত ভাবে রাশিয়া এই ধরনের বিষ প্রয়োগ করেছে। কেমিক্যাল ওয়েপন্স কনভেনশনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
শনিবার নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া দাবি করেন, তাঁর স্বামীকে যে হত্যা করা হয়েছে, তা প্রমাণিত হয়েছে। মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে ইউলিয়া বলেন, ‘‘দু’বছর আগেও আমি এই মঞ্চে এসে বলেছিলাম ভ্লাদিমির পুতিন আমার স্বামীকে হত্যা করেছেন। আমি নিশ্চিত হত্যাই করা হয়েছে আমার স্বামীকে। কিন্তু সেই সময় এটার কোনও প্রামাণ্য তথ্য ছিল না। কিন্তু এখন তা বিজ্ঞানসম্মত ভাবে প্রমাণিত।’’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে রাশিয়ার আর্কটিক জেল কলোনিতে নাভালনির মৃত্যু হয়। কারাগারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। জেল সূত্রে তখন দাবি করা হয়েছিল, নিজের সেলেই হাঁটাচলা করছিলেন রাশিয়ার বিরোধী দলের নেতা আলেক্সি। হাঁটতে হাঁটতে আচমকাই মাটিতে পড়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান। ২০২৩ সালের অগস্টে নাভালনিকে ১৯ বছরের জন্য কারাদণ্ড দিয়েছিল এক রুশ আদালত। তার আগেই তিনি জালিয়াতির অভিযোগে সাড়ে ১১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
৪৭ বছর বয়সি নেতা নাভালনি সব সময়ই রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের কট্টর সমালোচক ছিলেন। প্রকাশ্যে সমালোচনা করার অভিযোগে গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি। ২০২০ সালের অগস্ট মাসে তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টাও হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।