Muhammad Yunus

ইউনূস আমলে বহিষ্কৃত পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে পালাবদলের দু’মাস পরে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইউনূস সরকার। তার পর থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজগুলির ক্যাম্পাসে ব্যাপক সন্ত্রাস শুরু হয়।

অনির্বাণ দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৮:২০
Share:

মুহাম্মদ ইউনূস। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের আমলে দমনপীড়নের কারণে কয়েক হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ, জনতা-সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন তাঁরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হয়েছে বহু ছাত্রছাত্রীকে। বহু পড়ুয়ার সার্টিফিকেট পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র লীগের দাবি, ১৫ হাজারের বেশি পড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে ইউনূসের আমলে।

২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে পালাবদলের দু’মাস পরে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইউনূস সরকার। তার পর থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজগুলির ক্যাম্পাসে ব্যাপক সন্ত্রাস শুরু হয়। আক্রমণের নিশানায় ছিলেন ছাত্র লীগের সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়ারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবচেয়ে বেশি পড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংখ্যাটা আনুমানিক ৪০৩। এর পরেই রয়েছে জাহাঙ্গির বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে আড়াইশোর বেশি পড়ুয়াকে ক্যাম্পাস ছাড়া করা হয়। এক ছাত্রী বলেন, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু ছাত্র লীগের কর্মী-সমর্থক। স্রেফ তাই, আমি ক্যাম্পাসে মব সন্ত্রাসের শিকার। এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারি না।’’ তাঁর অভিযোগ, প্রথম, দ্বিতীয় এবং ফাইনাল ইয়ারের বহু পড়ুয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ইউনূসের শাসনকালে পাঁচ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। বহু ছাত্রছাত্রীর ক্যাম্পাসে ঢোকা বন্ধ করা হয়েছিল জনতা-সন্ত্রাস করিয়ে। পরীক্ষা দিতে আসা শতাধিক পড়ুয়াকে দলবদ্ধ ভাবে হেনস্থা করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের কাছে কোনও গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল না। ছাত্র লীগ নেতৃত্বের অভিযোগ, বাংলাদেশে এমন কোনও বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানে সার্টিফিকেট বাতিল, সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে শিক্ষাবর্ষে কালোতালিকাভুক্ত করা এবং ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশ ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইনান বলেন, ‘‘শিক্ষা মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার নিয়ে যে নোংরা রাজনীতির বলি বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদের হতে হয়েছে বা হচ্ছে, তার নজির যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনও দেশ ছাড়া কোথাও আছে বলে জানা নেই। শুধু ছাত্র লীগের কর্মীরাই নন, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক তাঁদেরকেও বেছে বেছে নিশানা করা হয়েছে। এখনও অবস্থার তেমন বদল হয়নি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন