—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফের হরমুজ় প্রণালী অবরোধ করার কথা ঘোষণা করেছে ইরান। আর তার পরেই শনিবার হরমুজ় পেরোনোর সময় ভারতের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে নিশানা করে গুলি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ‘জগ অর্ণব’ নামের ওই ট্যাঙ্কারটি ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে ইরাক থেকে আসছিল। ওই ট্যাঙ্কারটির পিছনেই ছিল আরও একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘সানমার হেরাল্ড’। যদিও সেই জাহাজটির উপর আক্রমণ হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
অন্য দিকে, সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, শনিবার সকালে হরমুজ় পেরোতে না পেরে ফিরে যায় চার ভারতীয় এবং দু’টি গ্রিক জাহাজ। সব মিলিয়ে হরমুজ় নিয়ে জটিলতা ফের বৃদ্ধি পেতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
শনিবার ব্রিটিশ সেনার তরফে প্রথম জানানো হয়েছিল যে, ইরানের ‘রেভলিউশনারি গার্ড’ দু’টি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। ঘটনাটি ওমানের উত্তর-পূর্ব উপকূল থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনায় ট্যাঙ্কারে থাকা সকলেই সুস্থ আছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে জানা যায়, ভারতের তেলবাহী একটি ট্যাঙ্কার হরমুজ় পেরোনোর সময় হামলাটি হয়।
ইরান পুনরায় হরমুজ় অবরোধের কথা ঘোষণা করার অনেক আগেই শনিবার সকালে চারটি ভারতীয় জাহাজকে ওই প্রণালী পেরোতে ‘বাধা’ দেওয়া হয়। ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদনে জলপথ পরিবহণের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে ভারতের চারটি এবং গ্রিসের দু’টি জাহাজ হঠাৎই হরমুজ় থেকে ফিরে যায়। কেন জাহাজগুলি নির্ধারিত যাত্রাপথ এড়িয়ে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘পূর্ণ শক্তিতে নৌ অবরোধ’ চালিয়ে যাবেন বলে শুক্রবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তেহরানকে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার হরমুজ়ে অবরোধ শুরুর কথা ঘোষণা করেছে মোজ়তবা খামেনেইয়ের দেশ। ইরানের সামরিক কমান্ড শনিবার বিবৃতিতে বলেছে, “যত ক্ষণ না ইরানে আগত সকল জাহাজের চলাচলের স্বাধীনতা আমেরিকা দিচ্ছে, তত ক্ষণ হরমুজ় প্রণালীর জাহাজ চলাচল কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।’’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই শনিবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, শত্রুদের আরও শোচনীয় ভাবে পরাস্ত করতে সে দেশের নৌবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।